― Advertisement ―

কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ড: ৬ বাংলাদেশির মরদেহ বেনাপোল ও ভোমরা দিয়ে দেশে ফেরত, ১ জনের সৎকার ভারতে

ভারতের কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো সাতজন বাংলাদেশি নাগরিকের মধ্যে ছয়জনের মরদেহ আনুষ্ঠানিকভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সীমান্ত ও আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে নিহতদের স্বজনদের কাছে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়।

গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ রাতে কলকাতার ওই হোটেলে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় সাতজন বাংলাদেশি প্রাণ হারান। ঘটনার পর থেকেই কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও নিবিড় সমন্বয় বজায় রাখে। প্রয়োজনীয় সকল আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করতে কূটনৈতিক দলটি তৎপর ছিল।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, নিহতদের মধ্যে সাতক্ষীরার বাসিন্দা এস এম আলীমুজ্জামান-এর মরদেহ ভোমরা-ঘোজাডাঙ্গা সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে দেশে ফিরিয়ে এনে স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চার সদস্য—দেবাশীষ দত্ত, আফসানা শারমিন, স্বর্ণশিষ দত্ত ও মো. আকরাম আলী—এবং ঢাকার আমীনবাজারের বাসিন্দা বাবু আহমেদ-এর মরদেহ বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে বেনাপোলে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে। পেট্রাপোল ও বেনাপোল কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সহায়তায় মরদেহগুলো তাদের স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

উপ-হাইকমিশন নিহতদের মরদেহ সংরক্ষণ, বিশেষ অ্যাম্বুলেন্স পরিবহন এবং সীমান্ত পারাপারের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়। তবে সপ্তম ব্যক্তি, সাতক্ষীরার বাসিন্দা রেপতি সরকার-এর মরদেহ তার পরিবারের ইচ্ছানুযায়ী গত রাতে কলকাতাতেই ধর্মীয় রীতি মেনে সৎকার করা হয়। এই সৎকারের সম্পূর্ণ ব্যয়ভার ও প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদান করেছে বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে। একই সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত এই দুর্ঘটনায় সার্বিক কূটনৈতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।