নিজস্ব প্রতিবেদক
গন-অভ্যুত্থানের পর এক বছর হতে চলেছে। গত বছরের পাঁচ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর নতুন সরকার গঠিত হয়। নতুন সরকারের কাছে মানুষের অনেক প্রত্যাশা। সেই প্রত্যাশার কতটা পুরণ হলো?
গত জুলাই আন্দোলনের প্রধান স্লোগান ছিল, ‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’। এই স্লোগানে উজ্জীবিত হয়ে দেশের কোটি কোটি মানুষ ঘর থেকে রাজপথে নেমে আসে। কিন্তু বৈষম্য কি দূর হয়েছে? এখনো দেশে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রভাবশালীদের প্রভাববিস্তার, চাকরি কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ হয়নি; বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। অভ্যুত্থানের পর প্রশাসনিক কাঠামোতে কতটা পরিবর্তন এসেছে?
আবার আইনশৃংখলা বাহিনী (বিশেষ করে পুলিশ) ঠিক মতো কাজ না করায় দেশের আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতিতে সাধারণ মানুষ অনেকটাই হতাশ!

এ নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অভ্যুত্থানের পর আমলারা যে বদলে গেছেন তেমনতো না। সেই আওয়ামী লীগ আমলের যেই আমলাতন্ত্র ছিল। যেটা নিপীড়নমূলক আমলাতন্ত্র, যে আমলারা মানুষকে মানুষ বলে মনে করতেন না, যে কারণে আমাদের এখানে এরকম অশ্লীল একটা ভিআইপি কালচার তৈরি হয়েছিল, সেই মানুষগুলোইতো আসলে তাদের পদগুলোতে রয়ে গেছেন। ফলে রাতারাতি পুরনো চিত্র বদলে ফেলা সম্ভব নয়। সম্ভবত, পুরনো আমলারা সেই সুজোগ নিচ্ছেন।
এদিকে যারা গত সরকার পতন আন্দোলনে মূখ্য ভূমিকায় ছিলেন, সেই ছাত্রনেতাদের বিরুদ্ধেও উঠছে চাঁদাবাজীর অভিযোগ। জুলাইকে পুঁজি করে অনেকেই অবৈধ উপায়ে টাকা আয় করছেন। সেই ক্ষোভে জুলাইকে ‘মানিমেকিং মেশিনে’ পরিণত করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন সাবেক সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা। এর কয়েকদিন আগে ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে গুলশানে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে ধরা পড়েন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ন আহবায়ক আবদুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান ওরফে বিয়াদ।

সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম হতাশা কাজ করছে। যে আশায় মানুষ পথে নেমে এসেছিল সেই আশা কি আদৌ পুরণ হবে? এ নিয়ে সাধারণ মানুষ কি বলছেন?
গত শনিবার (২ আগস্ট) পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় কথা হয় ঢাকার ব্যবসায়ী সুমন আহমেদ এর সাথে। তিনি বলেন, ‘হতাশ হতে মন চায়না। তার পরেও হতাশা এসে ভর করে। আগামী বছরে যদি নির্বাচন হয়, তবে কারা ক্ষমতায় আসবে? যারা আসবে, তারা সাধারণ মানুষের কতটা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে? না পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে? এসব চিন্তায় মাঝে মাঝে নিজের অজান্তেই হতাশা ভর করে। তাই একটু অবকাশের আশায় কুয়াকাটায় এসেছি।’
এ সময় কথা হয় এক পুলিশ কর্মকর্তার সাথে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘মানুষ বলে পুলিশ কাজ করছে না। কিভাবে কাজ করবে? যে পুলিশ মানুষের নিরাপত্তায় কাজ করবে, সেই পুলিশেরই নিরাপত্তা নেই। গত জুলাই-আগস্টে এতোগুলো পুলিশকে খুন করা হলো! কই, সরকারতো বিচারের কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

জুলাই ‘বাঁচার আন্দোলন থেকে বেচার আন্দোলন’ হয়ে গেছে বলে মনে করছেন আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান ইমু। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটা জায়গায় জুলাইকে নানাভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, কিন্তু জুলাই নিয়ে জনগণের মূল আকাঙ্ক্ষার জায়গা যেটা ছিল সেটা আসলে কোনোভাবেই বাস্তবায়ন হয়নি’।



