― Advertisement ―

বৃহস্পতিবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত

বরিশাল মেইল ডেস্কঃআগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় সব শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার তারিখ পরে জানানো হবে।আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ...

উপাচার্য বদলাতেই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার

শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন আসতেই অবসান ঘটল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাগত অচলাবস্থার। বিতর্ক ও আন্দোলনের মুখে ক্যাম্পাস প্রশাসন পুনর্গঠনের পর কর্মবিরতি তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষক সমিতি। ১৬ মে এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাঁরা শ্রেণীকক্ষে ফেরার বার্তা দেন। দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা কাটিয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন সচল করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছুটির দিনগুলোতেও বিশেষ ব্যবস্থায় ক্লাস ও পরীক্ষা নেওয়ার অভিনব সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন শিক্ষকেরা, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের বড় স্বস্তি দিচ্ছে।

এর আগে, পদোন্নতি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে ১০ মে থেকে কঠোর আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল শিক্ষক সমাজ। সেই ধারাবাহিকতায় তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। এই তীব্র অসন্তোষের মাঝেই ১৪ মে সরকারের এক প্রজ্ঞাপনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের ১১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়। বিদায়ী প্রশাসনের অপসারণের পর নবনিযুক্ত উপাচার্য হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন অধ্যাপক মো. মামুন অর রশিদ, যিনি ইতিপূর্বে এই বিদ্যাপীঠের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে কাজ করেছেন।

প্রশাসনিক এই পালাবদল নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে অবশ্য নানামুখী মূল্যায়ন ও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ মনে করছে, শীর্ষ পদের পরিবর্তন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে অন্য এক দল শিক্ষার্থীর মতে, সরকারের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যক্তিদের বদলানোর যে প্রথাগত রাজনৈতিক সংস্কৃতি রয়েছে, এই উপাচার্য বদলও তারই অংশ। তা সত্ত্বেও, নতুন অভিভাবক আসার পর শিক্ষকেরা ক্লাসে ফেরায় সেশনজটের আশঙ্কা হ্রাস পাওয়ায় সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা খুশি।

শিক্ষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে নবনিযুক্ত উপাচার্যের সাম্প্রতিক বৈঠকে সুনির্দিষ্ট আশ্বাসের ভিত্তিতেই এই আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা এসেছে। নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ স্পষ্ট করেছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে শিক্ষকদের পদোন্নতির আইনি ও যৌক্তিক সংকটগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে। ১৯ দিনের দীর্ঘ অবকাশ শুরু হলেও এই ছুটির মাঝেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, যা উচ্চশিক্ষার ধারাকে সচল রাখতে অন্যতম উদাহরণ।