পবিত্র ঈদুল আজহার গণমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ঈদযাত্রাকে দেশের নারী যাত্রীদের জন্য আরও নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ কোচ (Dedicated Coach) সংযোজন করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আজ সোমবার (২৫ মে, ২০২৬) সকালে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন (কমলাপুর) থেকে সিলেটগামী ‘জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস’ ট্রেনে সংযুক্ত বিশেষ নারী কোচের যাত্রীদের ফুল দিয়ে বিদায় জানানোর মাধ্যমে এই ব্যতিক্রমী ও কল্যাণমুখী সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মোঃ আফজাল হোসেন। ঘরমুখো নারীদের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজীকরণে সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় নেওয়া এই যুগান্তকারী উদ্যোগটি দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় জেন্ডার-রেসপন্সিভ বা লিঙ্গ-সংবেদনশীল সেবা নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উদ্বোধনকালে মহাপরিচালকের সাথে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) মো: নাজমুল হাসান, পূর্বাঞ্চলীয় মহাব্যবস্থাপক (GM) জনাব সুবক্তগীন এবং ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (DRM) সহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন ও কারিগরি কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতার সময় সিভিল এভিয়েশনের আদলে রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি কোচের ভেতরে গিয়ে নারী যাত্রী ও শিশুদের সাথে আন্তরিক কুশল বিনিময় করেন এবং তাঁদের হাতে ঈদের শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন। ঈদযাত্রার চিরাচরিত উপচে পড়া ভিড় এবং ঠেলাঠেলি এড়িয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব ও নিরাপদ একটি কামরা পেয়ে নারী যাত্রীরা চরম সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং জনবান্ধব এই বিশেষ উদ্যোগের জন্য বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন/নির্বাহী সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন।
রেলপথ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আজ বিকেলেই চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ননস্টপ আন্তঃনগর ট্রেন ‘সোনার বাংলা এক্সপ্রেস’ (৭৮৭) কমলাপুর স্টেশনে এসে পৌঁছালে তাতে সংযুক্ত বিশেষ কোচের নারী যাত্রীদের স্বাগত জানাবেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ ফাহিমুল ইসলাম। মূলত ঢাকা-সিলেট-ঢাকা রুটে চলাচলকারী ‘জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস’ এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে বিরতিহীন চলাচলকারী ‘সোনার বাংলা এক্সপ্রেস’—এই দুটি ট্রেনের একটি করে নির্দিষ্ট কোচকে সম্পূর্ণভাবে নারীদের জন্য সংরক্ষিত করার মাধ্যমে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে এই বিশেষ সার্ভিস চালু করা হলো। আজ সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ উইমেন-অনলি কোচ সার্ভিসটি ঈদের পূর্ববর্তী তিন দিন, অর্থাৎ আগামী বুধবার (২৭ মে, ২০২৬) পর্যন্ত নিয়মিতভাবে চালু থাকবে।
রেলওয়ের ট্রাফিক ও অপারেশনাল উইং সূত্রে জানা গেছে, ঈদযাত্রায় নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ট্রেনের ভেতরে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা হ্যারাসমেন্ট প্রতিরোধ করতে এই বিশেষ সিদ্ধান্ত অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এই বিশেষ কোচগুলোতে সাধারণ রেলওয়ে অ্যাটেনডেন্টের পাশাপাশি রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (RNB) এবং জিআরপি (GRP) পুলিশের নারী কনস্টেবলদের বিশেষ ডিউটি জোরদার করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ের এই সফল উদ্যোগের ধারাবাহিকতা ও যাত্রীদের ফিডব্যাক বিশ্লেষণ করে আগামীতে দেশের অন্য সব দূরপাল্লার আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতেও স্থায়ীভাবে নারীদের জন্য বিশেষ কামরা বা আসন বাড়ানোর বিষয়টি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নীতিগত পরিকল্পনায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন।



