পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে আদালত অবমাননার আবেদন করেছেন তাঁর বোন উজমা খান।
শনিবার (২২ আগস্ট) পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে আবেদনটি করা হয়। এতে সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালতের আদেশ ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর আগে ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি বোর্ডের মাধ্যমে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কথা ছিল। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, পরবর্তী শুনানি ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁর চিকিৎসা কার্যক্রম চলার কথা ছিল।
তবে ২০ ও ২১ আগস্টের মধ্যবর্তী রাতে ইমরান খানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে না নিয়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কয়েক ঘণ্টা ধরে তাঁর চিকিৎসা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় এবং পরে তাঁকে আবার রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
পাকিস্তান সরকারের দাবি, শিফা হাসপাতালের বাইরে ইমরান খানের সমর্থকদের জড়ো হওয়ার কারণে নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেই কারণেই তাঁকে পিআইএমএসে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে পরীক্ষা শেষে ইমরানকে ‘চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ’ ঘোষণা করা হয়।
তবে ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এবং তাঁর পরিবার সরকারের এই পদক্ষেপকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
উজমা খানের আবেদনে প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার কার্যক্রম শুরুর অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে একজন আদালত কর্মকর্তা বা স্থানীয় কমিশন নিয়োগেরও আবেদন করা হয়েছে।
এদিকে পিআইএমএস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইমরানের চোখের পরীক্ষা চলাকালে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের দুই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও অংশ নিয়েছিলেন। তবে তাঁর চিকিৎসা-সংক্রান্ত গোপনীয় প্রতিবেদনের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। তাঁর পরিবার ও দল দীর্ঘদিন ধরে তাঁর স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, কারাগারে তাঁর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে।



