― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

আবারও বেড়েছে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
মিয়ানমারের রাখাইনে আরাকান আর্মি দ্বারা নির্যাতিত হয়ে আবারো বাংলাদেশে ঢুকছে রোহিঙ্গারা। তারা রাতে ভেলায় চড়ে নাফ নদি পাড়ি দিয়ে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নিচ্ছে। সম্প্রতি আরাকান আর্মি ও মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সহিংসতার কারণে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশমুখী হচ্ছে।

সম্প্রতি নতুন করে এক লাখ ২৪ হাজার ১২৮ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে বলে তথ্য রয়েছে কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয়ে।

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরের বেশ কয়েকটিতে এসে নতুন করে আশ্রয় নিয়েছে রোহিঙ্গারা। সরকারি হিসাবে তাদের কোন নাম নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারে এখন পর্যন্ত অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা প্রায় সাড়ে ১২ লাখ।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, মিয়ানমার সীমান্তে বর্তমানে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা জড়ো হয়ে আছে। তবে তারা ব্যাপকভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে পাড়ছেনা। রাখাইনের বুথিডং থেকে রোহিঙ্গারা কলাগাছের ভেলায় চড়ে নাফ নদী পাড় হয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। আর যারা ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে এসে পড়েছে, তারা অধিকাংশই দালালের মাধ্যমে নৌপথে টেকনাফে ঢুকে এরপর ধাপে ধাপে বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারের বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির অনেক সদস্য আরাকান থেকে পালিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে একজন সশস্ত্র সদস্যসহ তিনজন বাংলাদেশে ঢোকার পর আটক হয়েছেন বিজিবির হাতে। আটক আরাকান আর্মির সদস্যরা বিজিবিকে জানিয়েছেন, আরাকানের ক্যাম্পগুলো থেকে সম্প্রতি তিন শতাধিক আরাকান আর্মির সদস্য পালিয়ে গেছে। তারা বাংলাদেশে ঢুকে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় বিজিবি সীমান্তে কড়াকাড়ি আরোপ করেছে।

মায়ানমারের আরাকান রাজ্যের মংডু এলাকার বেশ কিছু গ্রামে বাংলাদেশি মোবাইলের নেটওয়ার্ক রয়েছে। এসব গ্রামের বাসিন্দারা বাংলাদেশি নেটওয়ার্কের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে থাকেন।

মংডু এলাকার একজন রোহিঙ্গা জানান, আরাকান আর্মির সদস্যরা এখন খুব ভালো অবস্থায় নেই। সেখানে তারা আর্থিক সংকটে রয়েছে। এ অবস্থায় আরাকান আর্মির সদস্যরা রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরের বড় সাইজের গাছগুলো কেটে বিক্রি করে দিচ্ছে। এসব গাছ নৌকা বোঝাই করে নাফ নদীর লালদিয়া নামের দ্বীপে এনে বিক্রি করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, আরাকান আর্মির সদস্যরা রোহিঙ্গাদের গরু-ছাগল যখন যা প্রয়োজন তা জবাই করে খেয়ে ফেলছে। তারা রোহিঙ্গাদের চাষাবাদ, মাছের খামার থেকে শুরু করে প্রায় সবখানেই ট্যাক্সের নামে চাঁদা আদায় করে থাকে। এমনকি বিদ্যালয়পড়ুয়া প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণির প্রতিজন রোহিঙ্গা শিক্ষার্থীর কাছ থেকেও মাসিক ১০ থেকে ২০ হাজার কিয়েট চাঁদা নিয়ে থাকে।

আবার সেখানে চাঁদার অর্থ আদায় করা হয় বাংলাদেশি টাকায়। কেননা মায়ানমারের মুদ্রা তাদের কাজে আসে না। আরাকান আর্মির সদস্যরা কেনাকাটা করে থাকে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা থেকে।

এদিকে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামী ২৫ আগস্ট কক্সবাজার সফরে যাচ্ছেন। সেখানে আগামী মাসে রোহিঙ্গাবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান খুঁজতে কক্সবাজারের একটি রেস্টহাউসে বৈঠক করবেন তিনি।