― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

আইনি পদ্ধতিতেই নিষিদ্ধ হতে পারে আওয়ামী লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আওয়ামী লীগের অপরাধের তদন্ত করতে ইতিমধ্যেই কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে তা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জমা দেবে প্রসিকিউশন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রতিবেদন আমলে নিয়ে বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে পারবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম (প্রশাসন) গণমাধ্যমে বলেন, ‘চারটি শাস্তির মধ্যে একটি হচ্ছে দল নিষিদ্ধ করা। অপরাধ প্রমাণিত হলে ট্রাইব্যুনাল দল নিষিদ্ধ করতে পারবেন। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল কী করবেন, সেটা তাঁর বিষয়।

তিনি আরো বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, তারা (আওয়ামী লীগ) মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে। শেখ হাসিনা ছাত্রলীগ নেতা ইনানকে বলেছেন, “ছাত্রলীগ নামিয়ে দাও”।

প্রসিকিউটর বলেন, তিনি (শেখ হাসিনা) জাহাঙ্গীর কবির নানককে বলেছেন, “মোহাম্মদপুরে লোক নামিয়ে দাও”। তাপসের সঙ্গে বলেছেন, ঢাবির তৎকালীন ভিসিকে বলেছেন, “ছাত্রলীগ-যুবলীগকে বলে দিয়েছি”। এসব দলীয় নির্দেশনা।’

সংশোধিত আইনের ২০বি ধারায় বলা হয়েছে, যদি ট্রাইব্যুনালের কাছে প্রতীয়মান হয় যে কোনো সংগঠন এই আইনের ধারা ৩ (২)-এর অধীনে কোনো অপরাধ সংঘটন করেছে, আদেশ দিয়েছে, চেষ্টা করেছে, সহায়তা করেছে, উসকানি দিয়েছে, প্ররোচনা দিয়েছে, ষড়যন্ত্র করেছে, সহায়তা করেছে তাহলে ট্রাইব্যুনাল তার কার্যক্রম স্থগিত বা নিষিদ্ধ করতে, সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করতে, এর নিবন্ধন স্থগিত বা বাতিল করতে এবং এর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পারবেন।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, ‘বিচার ও শাস্তির বেসিক প্রিন্সিপাল (মূল নীতি) হচ্ছে, ঘটনার সময় আইনে অপরাধ হিসেবে বলা না থাকলে পরবর্তী সময়ে আইনে অপরাধ বানিয়ে শাস্তি দেওয়া যায় না। সংবিধানের ৩৫(১) অনুচ্ছেদে বলা আছে, অপরাধ সংঘটনকালে বলবৎ সেই আইনবলে যে দণ্ড দেওয়া যেত, তার অধিক বা ভিন্ন সাজা দেওয়া যাবে না।’

এদিকে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান দল। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ করা জাতিসংঘের এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্বিচারে মারণাস্ত্র দিয়ে গুলি, গ্রেপ্তার, নির্যাতন, চিকিৎসা পেতে বাধা দেওয়ার মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে আওয়ামী লীগ সরকার।

এ প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ‘অনেক সাক্ষী তাদের জবানবন্দিতে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন। এর প্রত্যেকটি কাজে লাগবে। কারণ সাক্ষীরা যখন তাঁদের বক্তব্য দিয়েছেন, দলের জড়িত থাকার কথা বলেছেন–এসব জুডিশিয়াল ডকুমেন্ট হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে দলটির বিরুদ্ধে যে তদন্ত হবে, দলের বিরুদ্ধে যেসব সাক্ষ্য-প্রমাণ আসবে, তার মধ্যে যেসব সাক্ষ্য এরই মধ্যে দেওয়া হয়ে গেছে, সেগুলোও অন্যতম এভিডেন্স হিসেবে গণ্য হবে। সাজার বিষয়ে আইনে আছে দল নিষিদ্ধ করা, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা।’