পোল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলে একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়ে প্রায় ১০ মিটার (৩৩ ফুট) প্রশস্ত গর্ত তৈরি করা ক্ষেপণাস্ত্রটি সম্ভবত রাশিয়ার ছোড়া বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড তুসক।
বৃহস্পতিবার ভোরে ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার (৬২ মাইল) দূরে তর্নাভা কোলোনিয়া গ্রামের কাছে একটি অজ্ঞাত বস্তু আছড়ে পড়ে। ওই সময় ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভে রাশিয়ার ব্যাপক হামলা চলছিল।
লুবলিনে বিশেষভাবে আহূত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তুসক বলেন, “সব ইঙ্গিত বলছে, এটি রুশ খ-১০১ ক্ষেপণাস্ত্র। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটির ধরন এবং এটি কে উৎক্ষেপণ করেছে, সে বিষয়ে আমরা শতভাগ নিশ্চিত হতে চাই।”
এর আগে ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা দাবি করেন, রাশিয়ার একটি খ-১০১ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনে চালানো ব্যাপক হামলার অংশ হিসেবে পোল্যান্ডের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে। তার ভাষায়, এটি ন্যাটোর আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে।
পোল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিস্লাভ কোসিনিয়াক-কামিশ জানান, রাতভর পোল্যান্ডের আকাশসীমার কাছাকাছি প্রায় ২০টি উড়ন্ত বস্তু শনাক্ত করা হয়েছিল। তর্নাভা কোলোনিয়ার কাছে বিধ্বস্ত বস্তুটির পরিচয় নিশ্চিত করতে এর ধ্বংসাবশেষের প্রযুক্তিগত ও রাসায়নিক বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
পোলিশ সামরিক বাহিনী বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ভোর প্রায় ৩টা ৪০ মিনিটে বস্তুটি শনাক্ত করে। সেটিকে প্রতিহত করতে একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়। তবে কয়েক মিনিট পর বস্তুটি রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়।
প্রধানমন্ত্রী তুসক জানিয়েছেন, ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করছে পোল্যান্ড।
এর আগের সন্ধ্যায় লুবলিনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন তুসক। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা শেষে ইউক্রেনে ফেরার পথে জেলেনস্কি ওই বৈঠকে অংশ নেন।
ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত ও বিশ্লেষণ অব্যাহত রয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটির প্রকৃত পরিচয় এবং এটি কোথা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল, তা নিশ্চিত করতে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।



