― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

মনপুরায় তীর ঘেঁষে অবৈধ বালু উত্তোলন: চরম হুমকিতে হাজার কোটি টাকার শহর রক্ষা বাঁধ

ভোলার মনপুরায় মেঘনা নদীর তীর সংলগ্ন এলাকা থেকে ড্রেজার দিয়ে অবিরত তোলা হচ্ছে অবৈধ বালু। নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে নদীপাড়ের একদম কাছ থেকে সংগৃহীত এই বালু আবার ব্যবহার করা হচ্ছে সরকার কর্তৃক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে। ফলে উপকূল রক্ষা বাঁধ প্রকল্পসহ পুরো দ্বীপ উপজেলাটি মারাত্মক নদীভাঙন ও ধসের ঝুঁকিতে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বেড়িবাঁধ প্রকল্পের মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এনডিএ’-এর সাইট ম্যানেজার, কয়েকজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের মদদে নিয়ম ভেঙে বালু উত্তোলন চলছে। গত রোববার সকালে উপজেলার ১ নম্বর মনপুরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গুচ্ছগ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদীতে মেসার্স মারিয়া এন্টারপ্রাইজের একাধিক ড্রেজারকে বালু তুলতে দেখেন এলাকাবাসী।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নদীপাড় থেকে অন্তত ১ কিলোমিটার দূর থেকে বালু উত্তোলনের বিধান থাকলেও কোথাও ৩০০ মিটার, কোথাও ৫০০ মিটার, আবার কোথাও মাত্র আধা কিলোমিটার দূর থেকে বালু তোলা হচ্ছে। সংগৃহীত বালু বাল্কহেডে লোড করে সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বেড়িবাঁধ নির্মাণস্থলে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও বালু বাণিজ্যের সিন্ডিকেটে কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এ বিষয়ে মারিয়া এন্টারপ্রাইজের ড্রেজার সুকানি জানান, এনডিএ কোম্পানির ম্যানেজার শহীদুল ইসলামের নির্দেশেই তারা কাজ করছেন। তবে ড্রেজার মালিক মো. আমির পাড়ের কাছাকাছি বালু তোলার কথা স্বীকার করে বিষয়টিকে ‘ভুল’ বলে দাবি করেন। অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী ও ম্যানেজার শহীদুল ইসলাম দাবি করেন, সুকানিরা তাঁদের নির্দেশনা অমান্য করে পাড়ের কাছাকাছি চলে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (ডিভিশন-২) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নদীকূল থেকে অন্তত ১ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করে বালু তোলার নির্দেশ দেওয়া আছে। শর্ত লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা এমদাদুল ইসলাম জানান, নদীকূল থেকে বেআইনিভাবে বালু তোলার খবর পেয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাজার কোটি টাকার বেড়িবাঁধ বাঁচাতে অবিলম্বে এই বেপরোয়া বালু উত্তোলন বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।