বর্ষার জলে কানায় কানায় পূর্ণ খালের বুকে সবুজ-হলুদ পেয়ারা বোঝাই শত শত ডিঙি নৌকা। একদিকে চাষিদের হাঁকডাক, অন্যদিকে পাইকারদের দরদাম। দুই শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলার আটঘর-কুড়িয়ানার ভাসমান পেয়ারার হাট এখন স্থানীয় কৃষি অর্থনীতি ও পর্যটনের মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে।
ভোর হতেই আশপাশের আদমকাঠি, জিন্দাকাঠিসহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে কৃষকেরা ডিঙি নৌকায় সদ্য তোলা রসালো পেয়ারা নিয়ে হাটে আসতে শুরু করেন। সন্ধ্যা নদীর শাখা খালজুড়ে বসে এই ব্যতিক্রমী জলবাজার। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পেয়ারা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মতে, পুরো মৌসুমে এই হাটে প্রায় ২০ কোটি টাকারও বেশি পেয়ারা কেনাবেচা হয়।
পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দ্রুত পণ্য পরিবহনের অভূতপূর্ব সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে কৃষকেরা আগের চেয়ে ভালো দাম পাচ্ছেন এবং পচনশীল এই ফলের বাজার উত্তরোত্তর সম্প্রসারিত হচ্ছে। স্থানীয় রেস্তোরাঁ ও হোটেলগুলোতে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভিড় বাড়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি এসেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে পিরোজপুর জেলায় ৭১০ হেক্টর জমিতে পেয়ারার আবাদ হয়েছে, যার বার্ষিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৭ হাজার ২১০ মেট্রিক টন। তবে এই সম্ভাবনাময় খাতের টেকসই রূপান্তরে হিমাগারের অভাব প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি আধুনিক মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা গেলে ফল পচন থেকে রক্ষা পাবে এবং প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে রপ্তানির সুযোগ বাড়বে বলে জানান স্থানীয় চাষিরা।



