যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে এক বিস্ফোরক ও সরাসরি হুমকি দিয়েছেন ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)-এর সাবেক শীর্ষ কমান্ডার হোসেইন কানানি মোকাদ্দাম। অতি সুরক্ষিত ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসের ভেতরে প্রবেশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষতি করার পূর্ণ সামরিক সক্ষমতা তেহরানের রয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। ইরানি সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘ফারারু’-কে দেওয়া সাম্প্রতিক এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তাঁর এই কড়া হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্য ও ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক মহলে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
সাক্ষাৎকারে সাবেক এই শীর্ষ কমান্ডার স্পষ্ট করে বলেন, ইরান যদি ট্রাম্পকে হত্যার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়, তবে হোয়াইট হাউসের ভেতরে গিয়েই সেই লক্ষ্য অর্জন করা তেহরানের জন্য অত্যন্ত সহজসাধ্য বিষয়। যখনই প্রয়োজন হবে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র তা কার্যকর করতে সক্ষম। তবে এই নজিরবিহীন হুমকির পাশাপাশি ওয়াশিংটনের সাথে তেহরানের চলমান দ্বিপাক্ষিক আলোচনার আসল উদ্দেশ্য নিয়েও কথা বলেন তিনি। মোকাদ্দাম জানান, এই আলোচনার লক্ষ্য কোনো স্থায়ী দ্বিপাক্ষিক শান্তি চুক্তি স্থাপন করা নয়।
ইরানি নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই কূটনৈতিক আলোচনার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো ওয়াশিংটনের সাথে বর্তমান সামরিক উত্তেজনা সাময়িকভাবে হ্রাস করা। একই সাথে হোয়াইট হাউস কর্তৃক ইরানের বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন অভিযোগের বিপরীতে তেহরানের নিজস্ব অধিকার ও ন্যায্য দাবিগুলো বৈশ্বিক দরবারে জোরালোভাবে তুলে ধরা। মোকাদ্দাম জোর দিয়ে বলেন, ট্রাম্প ও তাঁর সহযোগীদের অপরাধী চক্রের সাথে ইরান কোনো ধরনের স্থায়ী শান্তিতে বিশ্বাসী নয়।
সাবেক এই কমান্ডারের মতে, তেহরান আলোচনার টেবিলে বসেছে কেবল নিজেদের হৃত অধিকারগুলো পুনরুদ্ধার করতে এবং মার্কিন প্রশাসনের তোলা ভিত্তিহীন অভিযোগের দাঁতভাঙা জবাব দিতে। তবে কূটনৈতিক আলোচনা চলমান থাকলেও ওয়াশিংটনের পূর্ববর্তী অন্যায়ের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিশোধ এবং যথাযথ পাল্টা সামরিক জবাবের কৌশলটি তেহরানের নীতিনির্ধারণী টেবিলে অত্যন্ত জোরালো ও সক্রিয়ভাবেই বহাল রয়েছে বলে তিনি সতর্ক করে দেন।



