ইরানের পক্ষে গোপন তথ্য পাচার ও গুপ্তচরবৃত্তির মারাত্মক অভিযোগে তিন ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে পারস্য উপসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র বাহরাইনের একটি বিশেষ আদালত। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬) দেশটির রাষ্ট্রীয় কৌঁসুলির কার্যালয় থেকে এই রায় নিশ্চিত করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্তরা ইরানের অভিজাত সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি) এবং তাদের ছায়াগোষ্ঠীগুলোর সাথে গোপন যোগাযোগ গড়ে তুলেছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে বাহরাইনের জাতীয় নিরাপত্তা বিনষ্ট করা এবং রাষ্ট্রবিরোধী সন্ত্রাসী কার্যকলাপে সরাসরি মদদ দেওয়ার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যবর্তী প্রত্যক্ষ সংঘাতকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। এই আঞ্চলিক উত্তেজনার সুযোগে দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ব্যাহত করতে সক্রিয় হয়ে ওঠা ইরান-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে বাহরাইন প্রশাসন। মানামা কর্তৃপক্ষের দাবি, জাতীয় অখণ্ডতা রক্ষা এবং সার্বভৌমত্বকে বাহ্যিক হুমকি থেকে সুরক্ষিত রাখতেই তারা এই কঠোর প্রতিরোধমূলক আইনি অবস্থান গ্রহণ করেছে।
দেশটির শাসনতান্ত্রিক বিন্যাস ও জনসংখ্যার গঠন এই বিচারিক ও আইনি প্রক্রিয়াকে একটি জটিল মাত্রা দিয়েছে। বাহরাইনে বর্তমানে সুন্নি রাজতন্ত্রের শাসন বলবৎ থাকলেও মোট জনসংখ্যার এক বড় অংশ শিয়া সম্প্রদায়ের। স্থানীয় শিয়া গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক সুযোগ-সুবিধা ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের শিকার হওয়ার দাবি করে আসছে। এই রাজনৈতিক ফাটলকে ব্যবহার করে ইরান বাহরাইনের অভ্যন্তরে ছায়াযুদ্ধ চালানোর চেষ্টা করছে বলে সরকার মনে করে।
তবে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার মতে, এই জাতীয় নিরাপত্তা অভিযানের নামে মূলত শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে এবং ইতিমধ্যেই বহু মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাহরাইন সরকার মানবাধিকারকর্মীদের এই অভিযোগ জোরালোভাবে খণ্ডন করেছে। রাষ্ট্রীয় বিবৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, কোনো নাগরিকের ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিচার করা হচ্ছে না, বরং সুনির্দিষ্ট রাষ্ট্রদ্রোহ ও আইন লঙ্ঘনের অপরাধেই এই কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।



