― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

হামের টিকায় গাফিলতির তদন্তের দরকার নেই, ভুল সিদ্ধান্তের বোঝা বইছে জাতি: বিশেষ সহকারী জিয়াউদ্দিন হায়দার

দেশে হামের টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী প্রশাসনের চরম গাফিলতির ঘটনা তদন্তের জন্য নতুন কোনো তদন্ত কমিটি গঠনের প্রয়োজন নেই বলে সাফ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। রোববার (২১ জুন, ২০২৬) সচিবালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। সম্প্রতি পর্তুগালের লিসবনে অনুষ্ঠিত ৩৪তম ইন্টারন্যাশনাল কনফেডারেশন অব মিডওয়াইভস (ICM) ট্রায়েনিয়াল কংগ্রেসে অংশগ্রহণসহ তাঁর সাম্প্রতিক ইউরোপ সফরের অর্জনগুলো তুলে ধরতে এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। সেখানে স্বাস্থ্য খাতের নীতিনির্ধারণী ক্রুটি এবং হামে শিশুদের একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় প্রশাসনের দায় নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

বিশেষ সহকারী ব্যাখ্যা করেন যে, পূর্ববর্তী সরকারের সময় নিয়মিত অপারেশনাল প্ল্যান (OP) আকস্মিকভাবে বাতিল করে বিষয়টিকে ডিপিপিতে (Development Project Proforma) মাইগ্রেট বা স্থানান্তর করা হয়েছিল। তৎকালীন নীতিনির্ধারকেরা ধারণা করেছিলেন যে, মাত্র এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে ডিপিপি অনুমোদন করিয়ে তহবিল সচল করা সম্ভব হবে। তবে বাস্তব চিত্র ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত; এক বছরেও অনেক ডিপিপি প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি, যার ফলে একনেকে (ECNEC) অনুমোদন, প্রকল্প অফিস স্থাপন বা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পুরোপুরি থমকে যায়। নতুন কোনো বিকল্প আর্থিক উৎস তৈরি না করেই চলমান ফান্ডের ফ্লো বন্ধ করে দেওয়ার এই মারাত্মক ভুলের মাসুল ও ঘাটতির বোঝা পুরো জাতিকে এখনো বহন করতে হচ্ছে।

টিকা সংকটের জন্য অতীতের তীব্র গাফিলতিকে দায়ী করে জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, “এখানে নতুন করে তদন্ত করার আর কী আছে? বিগত প্রশাসনের চরম অবহেলার কারণেই ২০২৪-২৫ সালের নিয়মিত টিকার রাউন্ডটি বাংলাদেশ পুরোপুরি মিস করেছে; সে সময় ভ্যাকসিনের কোনো প্রকিউরমেন্ট বা আন্তর্জাতিক আমদানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়নি।” একই কারণে পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন জরুরি সামগ্রী ও কন্ট্রাসেপ্টিভ প্রোডাক্টের মারাত্মক ‘স্টক আউট’ বা শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এই আন্তর্জাতিক প্রকিউরমেন্ট নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য উপদেষ্টাসহ পুরো টিম দিন-রাত কাজ করছে এবং বৈশ্বিক ঘাটতি পূরণে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অবস্থিত ইউনিসেফের (UNICEF) সাপ্লাই ডিভিশন হেডকোয়ার্টারে জরুরি বৈঠকে অংশ নিতে রওনা হয়েছেন।

হামের টিকা দেওয়ার এক মাস পরও কেন শিশুরা এখনো নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে এবং মারা যাচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে বিশেষ সহকারী জানান, অতি সম্প্রতি যে জরুরি ন্যাশনাল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়েছে, তার মূল টার্গেট গ্রুপ ছিল ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুরা। বর্তমানে যারা আক্রান্ত হচ্ছে, তারা এই নির্দিষ্ট বয়সের বাইরের বা ৫ বছরের বেশি বয়সী কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। কারণ বড় শিশুদের এখনো টিকার আওতায় আনা যায়নি। তবে এই জুনের শেষেই ১০ বছর বয়স পর্যন্ত সব শিশুর জন্য হামের রেগুলার ভ্যাক্সিনেশন রাউন্ড শুরু হবে। তিনি মনে করিয়ে দেন, হামের সংক্রমণ ক্ষমতা কোভিডের চেয়ে প্রায় ৯ গুণ বেশি, তাই আক্রান্ত শিশুদের পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।