পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হয়েছিল মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলের একটি হতাশাজনক ড্রয়ের মধ্য দিয়ে। সেলেসাওদের চেনা ছন্দের অভাব এবং মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তির দলের ‘হেক্সা’ বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ স্বপ্ন বাস্তবায়ন নিয়ে শুরুতেই গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছিল ফুটবলপ্রেমীদের মনে। তবে অভিজ্ঞ এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড প্রথম ম্যাচের ফলকে ইতিবাচক হিসেবে নিয়ে সমর্থকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কোচের সেই আত্মবিশ্বাস ও রণকৌশলের সফল প্রতিফলন দেখা গেল টুর্নামেন্টে সেলেসাওদের দ্বিতীয় ম্যাচেই, যেখানে পুঁচকে হাইতির বিপক্ষে দাপুটে ফুটবল খেলে জয়ে ফিরল লাতিন আমেরিকার এই পরাশক্তি।
ফিলাডেলফিয়ার লিনকন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডের সবুজ গালিচায় ম্যাচের প্রথমার্ধেই হাইতির রক্ষণভাগ চূর্ণবিচূর্ণ করে ৩-০ গোলের স্বস্তিদায়ক লিড এনে দেয় কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। ফর্মের তুঙ্গে থাকা ফরোয়ার্ড ম্যাথিউস কুনহার চমৎকার জোড়া গোল এবং রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ প্রথমার্ধেই নিজেদের পকেটে পুরে নেয় সেলেসাওরা। যদিও ম্যাচের দ্বিতীয় অর্ধে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেওয়ার প্রবল প্রত্যাশা ছিল সমর্থকদের, কিন্তু ব্রাজিল কিছুটা রক্ষণাত্মক বা নিয়ন্ত্রণমুখী ফুটবল খেলায় জালের দেখা আর মেলেনি। তবে পুরো ম্যাচের লাগাম ও বল পজিশন শতভাগ ব্রাজিলের হাতেই ছিল।
হাইতি ম্যাচের প্রথমার্ধের এই ‘৩-০’ গোলের ব্যবধানই এখন বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ব্রাজিল সমর্থককে নতুন করে ফাইনালের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। ফুটবল ইতিহাসের রোমাঞ্চকর পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপে এর আগে শেষ যে চারবার প্রথমার্ধে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ম্যাচ শেষ করেছিল সেলেসাওরা, প্রতিবারই তারা সেই নির্দিষ্ট আসরের ফাইনাল খেলার গৌরব অর্জন করেছে। ঐতিহাসিক এই কাকতালীয় ও ইতিবাচক পরিসংখ্যানই এখন ফুটবল বিশ্লেষকদের আলোচনায় নতুন খোরাক জোগাচ্ছে, যা আনচেলত্তির দলের ওপর থেকে শুরুর মানসিক চাপ অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে।
ব্রাজিল ফুটবল দলের অতীত রেকর্ড বুক ঘেঁটে দেখা যায়, এই ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে দুইবার, ১৯৯৮ সালের আসরে একবার এবং সর্বশেষ ২০০২ সালের কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপে একবার। এর মধ্যে ১৯৫০ সালে ঘরের মাঠে উরুগুয়ে এবং ১৯৯৮ সালে স্বাগতিক ফ্রান্সের কাছে ফাইনালে ট্রফি হাতছাড়া করলেও, ২০০২ সালে কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওর ম্যাজিকে জার্মানিকে হারিয়ে পঞ্চম নক্ষত্র বা বিশ্বকাপ জিতেছিল ব্রাজিল। অবশ্য ফুটবলে পরিসংখ্যানই শেষ কথা নয় এবং গ্রুপ পর্বের ম্যাচ দিয়ে ট্রফির ভাগ্য নির্ধারণ করা অসম্ভব; তবুও হাইতির বিপক্ষে এই দাপুটে প্রথমার্ধ সেলেসাও ভক্তদের মনে আশা জাগাচ্ছে যে, ২০২৬ বিশ্বকাপের মহোৎসবের শেষ রাতেও হয়তো দেখা যাবে হলুদ জার্সির দাপট।



