― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

উপাচার্যের বিরুদ্ধে ববি শিক্ষকদের সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন; অচল বিশ্ববিদ্যালয়

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) শিক্ষকদের পদোন্নতি নিয়ে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব এখন এক চূড়ান্ত সংকটে রূপ নিয়েছে। কয়েকদিন ধরে চলমান ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির পর এবার উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের বিরুদ্ধে ‘সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের’ ডাক দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কঠোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়। শিক্ষকদের এই আন্দোলনের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর।

শিক্ষকদের অভিযোগের মূলে রয়েছে পদোন্নতি বা আপগ্রেডেশন প্রক্রিয়ায় উপাচার্যের অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব এবং অনিয়ম। আন্দোলনকারীরা জানান, ২০২৪ সাল থেকেই অনেক শিক্ষক পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করলেও তৎকালীন এবং বর্তমান উপাচার্য এই বিষয়ে রহস্যজনক নীরবতা পালন করছেন। আইন অনুযায়ী আবেদনের ৪৫ দিনের মধ্যে বোর্ড সভা ডাকার নিয়ম থাকলেও তা লঙ্ঘন করা হয়েছে। এছাড়া, সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে সুপারিশ অনুমোদনেও টালবাহানা করা হচ্ছে বলে শিক্ষকরা দাবি করেন। তাঁদের মতে, এই স্থবিরতা কেবল শিক্ষকদের ক্যারিয়ার নয়, বরং পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক শৃঙ্খলাকে ধ্বংস করছে।

সংকটের গভীরতা আরও বেড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি বিতর্কিত নির্দেশনাকে কেন্দ্র করে। শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, উপাচার্য ইউজিসির দোহাই দিয়ে বৈধ পদোন্নতি কার্যক্রম স্থগিত রেখেছেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের পরিপন্থী। ইউজিসির চিঠিতে চ্যান্সেলরের অনুমোদিত সংবিধি ছাড়া নিয়োগ ও ডিগ্রির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষকদের দাবি, এই নির্দেশনা কার্যকর হলে দেশের অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের আইনি ভিত্তি হুমকির মুখে পড়বে। বর্তমানে ববির ২৫টি বিভাগে শিক্ষক স্বল্পতা এবং ৫১টি শূন্যপদ অপূর্ণ থাকায় পাঠদান প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শিক্ষকরা। তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আইনগত অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত ক্লাস বর্জনসহ অসহযোগ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে, উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকদের ক্লাস-পরীক্ষায় ফেরার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই অচলাবস্থা চলতে থাকলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে।