ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় চড়া দামে বিদ্যুৎ কিনেও নিরবচ্ছিন্ন সেবা না পাওয়ার ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল ২০২৬) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত ‘ওয়েস্টার্ন রিনিউএবল এনার্জি’ সোলার মিনিগ্রিড বিদ্যুৎ কেন্দ্রে তালা ঝুলিয়ে দেন বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। ইউনিট প্রতি ৩০ টাকা এবং অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ দিয়েও গত ছয় মাস ধরে দিনে মাত্র দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়ায় এই চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনেও রাতের অন্ধকারে থাকা তাঁদের জন্য অসহনীয় হয়ে পড়েছে।
সংকটটি কেবল সাধারণ গৃহস্থালিতে সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা ও শিক্ষার্থীদের ওপরও। সিরাজগঞ্জ ও কোড়ালিয়া বাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বিদ্যুতের অভাবে তাঁদের ব্যবসায় লোকসান বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে সাকুচিয়া মাধ্যমিক ও বালিকা বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় কুপি ও হারিকেনের আলোতে পড়াশোনা করতে গিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। গ্রাহকদের দাবি একটাই—অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে হলেও তাঁদেরকে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে হবে।
বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের দাবি, রোদ স্বল্পতার কারণে সোলার প্যানেল পর্যাপ্ত চার্জ হচ্ছে না এবং ব্যাকআপ জেনারেটর চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। প্রকল্পের পরিচালক এস. এন. কাইয়ুম বাপ্পি জানান, জেনারেটরের জন্য সরকারের কাছে জ্বালানি চেয়েও তারা পাননি। তবে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আবু মুছা এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। তাঁর মতে, দ্বীপে কোনো জ্বালানি সংকট নেই এবং কোম্পানিটি অজুহাত তুলে রাতের বেলা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখছে। প্রশাসনিক ও কোম্পানির এই পরস্পরবিরোধী অবস্থানে সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ১১২০ জন গ্রাহকের ভাগ্য এখন ঝুলে আছে স্থানীয় প্রশাসন ও সোলার মিনিগ্রিড কোম্পানির মধ্যকার সমন্বয়ের ওপর। ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত ২৭৯.৫ কিলোওয়াটের এই প্রকল্পটি দ্বীপের মানুষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসার কথা থাকলেও, বর্তমানে এটি জনঅসন্তোষের প্রধান কারণে পরিণত হয়েছে। দ্রুত ডিজেল সরবরাহ বা কারিগরি ত্রুটি সমাধান করে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না করলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এলাকাবাসী।



