― Advertisement ―

চীনের সামরিক চাপের মুখে দ্রুত মার্কিন অস্ত্র চান তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট

তাইওয়ানের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা রক্ষা এবং নিজেদের ভূখণ্ডগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পদক্ষেপকে বেইজিংয়ের প্রতি কোনো ধরনের ‘উসকানি’ হিসেবে না দেখার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। একই সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) একদলীয় একাধিপত্য ও সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে পুনরায় সাফ অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন, ২০২৬) রাজধানী তাইপেইয়ে দেওয়া এক নীতিগত বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট লাই আশা প্রকাশ করেন, তাইওয়ানের জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও সামরিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত নতুন আধুনিক অস্ত্র বিক্রির প্যাকেজটি মার্কিন কংগ্রেসে দ্রুত চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে।

প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে তাঁর বক্তব্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তাদের কৌশলগত নৌ ও বিমানবাহিনীর উপস্থিতি এবং মহড়া নজিরবিহীনভাবে বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে তাইওয়ানের ওপর বেইজিংয়ের সামরিক আগ্রাসন, কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নকরণ এবং মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের কার্যক্রম ক্রমশ তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই হাইব্রিড হুমকির মুখে নিজেদের আকাশসীমা ও জলসীমা সুরক্ষিত রাখা তাইওয়ানের সার্বভৌম অধিকার, যা কোনো আন্তর্জাতিক আইনের আলোকেই উসকানিমূলক আচরণ হিসেবে গণ্য হতে পারে না।

দীর্ঘদিন ধরেই গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত দ্বীপরাষ্ট্র তাইওয়ানকে চীন নিজেদের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে আসছে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে তা মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার হুমকি দিচ্ছে। এর বিপরীতে, তাইওয়ানের নির্বাচিত সরকার ও আপামর জনগণ নিজেদের স্বাধীন শাসনব্যবস্থা ও বহুত্ববাদী গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাইপেইয়ের কৌশলগত অংশীদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, তাইওয়ান প্রণালীতে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং বেইজিংয়ের সম্ভাব্য আগ্রাসন রুখতে মার্কিন ‘অপ্রতিসম যুদ্ধকৌশল’ (Asymmetric Warfare) ও অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এই মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউস ও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ইতিমধ্যে তাইওয়ানের জন্য কয়েক বিলিয়ন ডলারের অ্যান্টি-শিপ মিসাইল, এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং ড্রোন প্রযুক্তির একটি নতুন চালানের খসড়া তৈরি করেছে, যা এখন চ্যারেট বা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রেসিডেন্ট লাইয়ের এই দ্ব্যর্থহীন বক্তব্য মূলত মার্কিন আইনপ্রণেতাদের ওপর আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে অস্ত্র সরবরাহ ত্বরান্বিত করার একটি কূটনৈতিক চাপ। সুইজারল্যান্ডে চলমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের মুখে তাইওয়ান প্রণালীকে স্থিতিশীল রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের আরও সক্রিয় ভূমিকা চান তাইপেইয়ের এই শীর্ষ নেতা।