গত এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি ভেঙে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে। ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী ও সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত ও জরুরি পোস্টে উভয় পক্ষকে লক্ষ্য করে বলেন, ইসরায়েল এবং ইরানকে অবিলম্বে পরস্পরের বিরুদ্ধে এই হামলা চালানো এবং “গুলি ছোঁড়া” (Shooting) বন্ধ করতে হবে। হোয়াইট হাউস সূত্র জানিয়েছে, ওয়াশিংটনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা যখন একটি চূড়ান্ত চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছিল, ঠিক তখনই এই আকস্মিক হামলা শুরু হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন তীব্র কূটনৈতিক অস্বস্তিতে পড়েছে এবং ট্রাম্প নিজেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সংযত থাকার তাগিদ দিচ্ছেন।
এই সংঘাতের সূচনা হয় যখন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) লেবাননের বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে নতুন করে বিমান হামলা চালায়। এর পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ইসরায়েলের হাইফা শহরের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় এবং একই সাথে নেভাতিম ও তেল নোফ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। আইআরজিসির মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইসরায়েল যদি দক্ষিণ লেবানন ও বৈরুতে তাদের আগ্রাসন বন্ধ না করে কিংবা ইরানের এই প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের জবাব দেয়, তবে ইসরায়েল ও এই অঞ্চলে তার সমর্থকদের ওপর আরও ধ্বংসাত্মক ও অনুশোচনীয় আঘাত হানা হবে।
ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরোধ অক্ষের অন্যান্য শরিকরাও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিরা ইসরায়েলের অধিকৃত জাফা (তেল আবিব) অঞ্চলের অত্যন্ত সংবেদনশীল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সফল ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে লোহিত সাগরে ইসরায়েলি ও ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর পূর্ণাঙ্গ ও সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করার ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁরা সাফ জানিয়েছেন, ফিলিস্তিন, গাজা, লেবানন ও ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি অন্যায্য অবরোধের মুখে তাঁরা কিছুতেই নীরব থাকবেন না।
এদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হওয়ায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জরুরি ভিত্তিতে সীমিত পরিসরে নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছেন। ইসরায়েলি সেনা রেডিওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে এই সামরিক অভিযান আরও কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে এবং আইডিএফ বড় পরিসরে তাদের রিজার্ভ সেনা সক্রিয় করার পাশাপাশি পশ্চিম তীর ও জর্ডান সীমান্তে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করছে। উদ্ভূত এই চরম যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং দূতাবাসের সমস্ত সরকারি কর্মকর্তা ও নাগরিকদের অনতিবিলম্বে সুরক্ষিত আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



