শরীয়তপুর জেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আকস্মিকভাবে একটি ঝটিকা মিছিল বের করেছেন। শনিবার (৬ জুন, ২০২৬) বিকেলে শরীয়তপুর পৌরসভার প্রেমতলা সংলগ্ন ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কে এই মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়। দলীয় ব্যানার ও জাতীয় পতাকা হাতে নেতা-কর্মীদের স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রাপ্ত ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, মিছিলটির সম্মুখভাগে জাতীয় পতাকা হাতে কর্মীরা বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দিচ্ছেন এবং এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন শরীয়তপুর সদরের পালং ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সেলিম শেখ।
ঝটিকা মিছিলটি চলাকালীন অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সেলিম শেখ তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজ থেকে পুরো ঘটনার সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ) করেন। মিছিল থেকে নির্বাসিত দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং আওয়ামী লীগের ওপর থেকে সাংগঠনিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জোরালো দাবি জানানো হয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা এবং শরীয়তপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেনের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন। গত দুই সপ্তাহ ধরে জেলার বিভিন্ন স্পর্শকাতর পয়েন্টে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর এমন আচমকা মহড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এর আগে গত সোমবার সকালে জেলা শহরের প্রধান সড়কে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীরা অনুরূপ একটি ঝটিকা মিছিল সম্পন্ন করেন। তারও আগে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুরের পাঁচটি পৃথক স্থানে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ঝটিকা মিছিল বের করেছিলেন। এই সাম্প্রতিক মিছিলের বিষয়ে বক্তব্য জানতে পালং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সেলিম শেখের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পালং ইউনিয়ন যুবলীগের একজন শীর্ষ নেতা জানান, রাজনৈতিক মামলার প্রতিবাদে তারা রাজপথে নেমেছেন এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের গোপনীয় ও আকস্মিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে, শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের মিছিলের তথ্য প্রাথমিকভাবে পুলিশের কাছে ছিল না। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিওর সূত্র ধরে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



