― Advertisement ―

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ৪টি ড্রোন ভূপাতিত করল মার্কিন বাহিনী , ধ্বংস করেছে উপকূলীয় রাডার স্টেশন

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির আকাশসীমায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের চারটি আত্মঘাতী ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ সফলভাবে ধ্বংস করার দাবি করেছে। ওয়াশিংটনের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তরের দাবি, এই ড্রোনগুলো আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচলকারী বাণিজ্যিক ও সামুদ্রিক মালবাহী জাহাজগুলোর নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছিল। এই ঘটনার পরপরই নতুন করে হামলা রুখতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) পারস্য উপসাগরের গোরুক ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত ইরানের দুটি উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্টেশনে যৌথ বিমান হামলা চালিয়েছে। তেহরান অবশ্য এখন পর্যন্ত এই সামরিক অ্যাকশনের বিষয়ে দাপ্তরিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

সাম্প্রতিক এই বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাটি দুই দেশের মধ্যেকার অতি সাম্প্রতিক ও অত্যন্ত ভঙ্গুর একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে চূড়ান্ত পতনের মুখে ঠেলে দিয়েছে। গত বুধবার কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ড্রোন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যাতে অন্তত একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ষাটেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হন। মার্কিন সামরিক গোয়েন্দাদের দাবি, ইরান অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কুয়েতের সেই বেসামরিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল। যদিও ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়ে দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারিগরি ত্রুটির কারণেই কুয়েতে ওই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই সর্বাত্মক সংঘাতের সূত্রপাত ঘটেছিল গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি, যখন মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমানবাহিনী যৌথভাবে ইরানজুড়ে স্মরণকালের বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়। এর পাল্টা জবাবে আইআরজিসি ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে এবং বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে দেয়। বিশ্ববাজারের প্রায় ২০ শতাংশ খনিজ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় ইরানের এই ব্লকেডের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজারে তীব্র সংকট তৈরি হয় এবং তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত এপ্রিলের শুরুতে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোর ওপর তাদের অর্থনৈতিক অবরোধ বহাল রাখে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, উভয় পক্ষ একটি স্থায়ী ও সুনির্দিষ্ট চুক্তিতে উপনীত হয়ে তা চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষর না করা পর্যন্ত এই বন্দর অবরোধ কর্মসূচি কোনো অবস্থাতেই প্রত্যাহার করা হবে না। মার্কিন এই অর্থনৈতিক চাপের মুখে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের সামরিক তৎপরতা ও ড্রোন হামলা বাড়িয়ে দেওয়ায় বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখন সম্পূর্ণ অকার্যকর হওয়ার দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে।