ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি অভিযোগ করেছেন, সরকার তার নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তার মাধ্যমে মুক্তচিন্তা ও সংস্কৃতিবিরোধী একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীকে প্রচ্ছন্ন সমর্থন জোগাচ্ছে। শুক্রবার (৫ জুন, ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে চলচ্চিত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন নির্মাতা ও কলাকুশলীদের কয়েকটি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ সব কথা বলেন। ‘শিল্প-সংস্কৃতির স্বাধীন চর্চা, মুক্তচিন্তা ও সাংস্কৃতিক নিরাপত্তার দাবিতে’ এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, বিগত সরকারগুলোর ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রশাসনও একদিকে যেমন দুর্বৃত্তদের লালন করছে ও সাম্রাজ্যবাদকে তোষণ করছে, অন্যদিকে নিজেদের ক্ষমতার স্বার্থে মানুষের চিন্তাচেতনা ও সক্রিয়তাবিরোধী ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। তিনি সরকারকে অবিলম্বে এই নীতি পরিহার করার আহ্বান জানান। সমাজে মানুষের ওপর যখনই কোনো নিপীড়ন আসবে, তার বিরুদ্ধে চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের রাজপথে এবং সৃষ্টিশীল কাজের মাধ্যমে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
দেশের চলমান সাংস্কৃতিক সংকটের কথা উল্লেখ করে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর প্রদর্শনী বন্ধ করা মূলত সমাজে জেঁকে বসা বর্বরতার একটি নগ্ন প্রকাশ। এর আগেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গানের আসর বন্ধ করা, মাজার ও বাউলগানের ওপর হামলা এবং নাটক, থিয়েটার শো, কবিতা ও কবি গানের আসর জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি গোষ্ঠী তথাকথিত ‘অশ্লীলতার’ অজুহাত তুলে প্রদর্শনী বন্ধ করলেও, কীসের ভিত্তিতে একে অশ্লীল বলা হলো তার কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা মেলেনি। উল্টো প্রশাসনও এই গোষ্ঠীর সুরে সুর মিলিয়ে একই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করছে।
সমাবেশে সংস্কৃতিমন্ত্রীর একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মন্ত্রী যখন বলেন তিনি জানেন না ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে, তখন তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও রহস্যজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এই অপশক্তি বহু বছর ধরে বিভিন্ন সরকারের প্রকাশ্য-প্রচ্ছন্ন মদদে আজকের এই দাপুটে অবস্থানে পৌঁছেছে। এই গোষ্ঠী দেশের নারী-শিশুর নিরাপত্তাহীনতা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন কিংবা সার্বভৌমত্ব সংকটের বিরুদ্ধে কখনোই কোনো কথা বলে না। জাতীয় চলচ্চিত্র আন্দোলন, বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজসহ ছয়টি প্রগতিশীল সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশ শেষে চলচ্চিত্র সংস্কার রোডম্যাপের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে লেখা একটি খোলা চিঠি পাঠ করেন।



