মধ্যপ্রাচ্যে লেবানন ফ্রন্টে অনবরত সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সরাসরি ‘পাগল’ আখ্যা দেওয়ার কথা নিজেই স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে চলমান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক মধ্যস্থতার চেষ্টা চলাকালীন এক রুদ্ধদ্বার ফোনালাপে ট্রাম্প তেল আবিবের শীর্ষ নেতৃত্বকে এই কড়া বার্তা দিয়েছিলেন। বুধবার (৩ জুন, ২০২৬) প্রচারিত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের এই স্বীকারোক্তি মার্কিন গণমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ (Axios)-এর পূর্ববর্তী চাঞ্চল্যকর এক্সক্লুসিভ রিপোর্টকে সত্য হিসেবে প্রমাণ করল।
জনপ্রিয় ‘পড ফোর্স ওয়ান’ পডকাস্টে দেওয়া ওই বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের কাছে সরাসরি জানতে চাওয়া হয়েছিল, মার্কিন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী তিনি আসলেই নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ‘অকৃতজ্ঞতার’ অভিযোগ তুলেছেন কি না। জবাবে ট্রাম্প অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “হ্যাঁ, আমি তাঁকে অবিকল এই কথাই বলেছিলাম। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে রাগান্বিত ছিলাম না, বরং লেবাননে তাঁর লাগামহীন ও অনবরত যুদ্ধ টেনে লম্বা করার কৌশলগত জেদ দেখে কিছুটা বিরক্ত ছিলাম।” ট্রাম্প মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে আরও জানান যে, এই উষ্মা সত্ত্বেও নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক ও স্ট্র্যাটেজিক সম্পর্ক এখনো অত্যন্ত চমৎকার ও শক্তিশালী।
মার্কিন প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার গোপন সূত্রের বরাতে অ্যাক্সিওসের ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টে বলা হয়েছিল, গত সোমবারের ওই ফোনালাপে ট্রাম্প বেশ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে নেতানিয়াহুকে বলেন, “আপনি একটা আস্ত পাগল! হোয়াইট হাউসে আমি আপনার পাশে না থাকলে এবং আপনার পিঠ রক্ষা না করলে এত দিনে আপনাকে দুর্নীতির মামলায় জেলে কাটাতে হতো। আপনার এই যুদ্ধবাজ নীতির কারণে আন্তর্জাতিক মহলে এখন সবাই আপনাকে এবং ইসরায়েল রাষ্ট্রকে তীব্র ঘৃণা করছে।” পডকাস্টে ট্রাম্প আরও যোগ করেন যে, তিনি তাঁর ইসরায়েলি সমকক্ষকে স্পষ্টভাবে বলেছেন, “বিবি (নেতানিয়াহু), আমাদের এখনই এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে হবে।”
অন্যদিকে ট্রাম্পের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের জবাবে সিএনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ফোনালাপের গোপন বিবরণ প্রকাশ করতে পুরোপুরি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর কূটনৈতিক সখ্যের কোনো অবনতি হয়নি দাবি করে তিনি বিষয়টিকে একটি ‘পারিবারিক মনস্তাত্ত্বিক দ্বিমত’ হিসেবে ফ্রেমিং করার চেষ্টা করেন। নেতানিয়াহু বলেন, “আজ পর্যন্ত হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় ও বিশ্বস্ত মিত্র হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমাদের সামগ্রিক লক্ষ্য ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ এক, তবে একটি সুখী পরিবারের মধ্যেও মাঝেমধ্যে রণকৌশল নিয়ে কিছু অভ্যন্তরীণ ও কৌশলগত মতপার্থক্য তৈরি হতেই পারে।”



