― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

দ্বিতীয় বিয়ে করতে না পারার ক্ষোভে মাকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করল ছেলে

পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দঘন সকালে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার বানা ইউনিয়নের পণ্ডিত বানা গ্রামে পারিবারিক কলহ ও দ্বিতীয় বিয়ে করার জেদের জেরে হোসেন শেখ (২৯) নামের এক যুবকের কোদালের নৃশংস কোপে তাঁর জন্মদাত্রী মা ফুলজান বেগম (৬০) ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে, ২০২৬) ঈদের দিন সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে ঈদের আনন্দের মাঝেই এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে, যা পুরো এলাকায় চরম স্তব্ধতা ও গভীর শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে। নিহত ফুলজান বেগম ওই গ্রামের দিনমজুর হাফিজার শেখের স্ত্রী।

পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় ডায়েরি সূত্রে জানা যায়, পেশায় নির্মাণশ্রমিক হোসেন শেখ কয়েক বছর আগে পারিবারিকভাবে প্রথম বিয়ে করেছিলেন। তবে পারিবারিক বনিবনা না হওয়ায় মাত্র এক বছর সংসার করার পর তাঁর প্রথম স্ত্রী তাঁকে ডিভোর্স দিয়ে বা ছেড়ে বাপের বাড়ি চলে যান। এরপর থেকেই হোসেন শেখ পুনরায় বিয়ে করার জন্য পরিবারের ওপর অনবরত মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। তবে অর্থনৈতিক টানাপোড়েন এবং যুবকের মানসিক অস্থিরতার কারণে পরিবার তাঁকে এখনই দ্বিতীয় বিয়ে করাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে মা-বাবার ওপর হোসেনের তীব্র ক্ষোভ ও জেদ দানা বেঁধে উঠছিল।

আজ ঈদের দিন সকালে যখন পুরো গ্রামে উৎসবের আমেজ, তখন হোসেনের ঘরের সামনের উঠোনে তাঁর মা ফুলজান বেগম একটি ফুলগাছের চারা রোপণ করতে যান। এ সময় মায়ের সাথে হোসেনের দ্বিতীয় বিয়ে এবং সাংসারিক নানা বিষয় নিয়ে পুনরায় তীব্র বাকবিতণ্ডা ও কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে হোসেন প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে ঘর থেকে মাটি কাটার ভারী কোদাল এনে সরাসরি তাঁর বৃদ্ধা মায়ের মাথায় সজোরে কোপ দেন। কোদালের ধারালো অংশের আঘাতে ফুলজান বেগমের মাথার খুলি বিচ্ছিন্ন হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি তৎক্ষণাৎ উঠোনেই ঢলে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই ঘাতক ছেলে হোসেন শেখ গ্রাম ছেড়ে আত্মগোপন করেন।

খবর পেয়ে আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাপ্লুত লাশ উদ্ধার করে। আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। ওসি আরও জানান, অভিযুক্ত যুবক কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ও তীব্র বিষণ্নতায় ভুগছিলেন এবং তিনি কোনো মোবাইল ফোন ব্যবহার না করায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করতে পুলিশকে বেগ পেতে হচ্ছে। তবে ঘাতক ছেলেকে আইনের আওতায় আনতে এবং গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান পরিচালনা করছে।