দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ নানা বিষয়ে আদর্শিক মতপার্থক্য থাকলেও গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদের প্রশ্নে সবাই সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন যে, বাংলাদেশে আর কখনো গণহত্যাকারী দল আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসিত হতে বা রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হবে না। যে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব দেশের লাখ লাখ সাধারণ নেতাকর্মীকে মাঠের চরম সংকটে ফেলে রেখে বিদেশে পালিয়ে যায়, তাদের এদেশের মাটিতে রাজনীতি করার নৈতিক অধিকার হারিয়ে গেছে।
সোমবার (১৮ মে, ২০২৬) দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম বাজারে উপজেলা এনসিপি আয়োজিত এক বিশাল গণ-পদযাত্রায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপির এই কর্মসূচিতে দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র-জনতা অংশ নেন। বর্তমান শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে হাসনাত আব্দুল্লাহ হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পুলিশ প্রশাসনকে যেভাবে বিরোধী মত দমনে নগ্নভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল, দুঃখজনকভাবে বর্তমান সময়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাধীন মতপ্রকাশের কারণে গ্রেপ্তারের মতো একই ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তরুণেরা এমন বৈষম্যমূলক ও নিপীড়নমূলক বাংলাদেশ দেখতে চায় না।
দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্যের তীব্র সমালোচনা করে তরুণ এই সংসদ সদস্য বলেন, দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের সন্তানেরা শত প্রতিকূলতার মাঝেও দেশের মাটিতে পড়াশোনা করছে। অথচ সাবেক ক্ষমতাধর ও আমলাদের সন্তানেরা বিদেশে বিলাসবহুল জীবনযাপন, পড়াশোনা ও চিকিৎসা নিচ্ছে। সাধারণ নাগরিকদের কানাডার বেগমপাড়ায় কোনো বাড়ি-গাড়ি নেই, অথচ অনেক রাজনৈতিক মুরব্বি ও সাবেক কর্মকর্তাদের বিপুল সম্পদ বিদেশে পাচার হয়েছে। এই কাঠামোগত বৈষম্য দূর করতে আগামী জাতীয় বাজেটে তরুণদের কর্মসংস্থান, আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) শিল্প খাতকে শক্তিশালী করার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে চৌদ্দগ্রামের ভৌগোলিক অবস্থান তুলে ধরে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় চৌদ্দগ্রাম অঞ্চলে মাদক চোরাচালান জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীরা দেশ ও জাতির প্রকাশ্য শত্রু এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করতে হবে। কিছু মাদক কারবারির সঙ্গে স্থানীয় থানার অসাধু পুলিশ সদস্যদের গোপন আর্থিক সম্পর্কের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি পুলিশ প্রশাসনকে আরও আধুনিক, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক করার জোর দাবি জানান।



