পিয়ংইয়ংয়ের সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এখন এক নতুন উচ্চতায়। উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি এমন এক উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ইঞ্জিনের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে, যা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম অস্ত্রভাণ্ডার গড়ার পথে বড় এক ধাপ। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ (KCNA) জানিয়েছে, সর্বোচ্চ থ্রাস্ট ক্ষমতাসম্পন্ন এই ‘সলিড-ফুয়েল’ ইঞ্জিন পরীক্ষাটি স্বয়ং নেতা কিম জং উন উপস্থিত থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন। অত্যাধুনিক কম্পোজিট কার্বন ফাইবার প্রযুক্তিতে তৈরি এই ইঞ্জিনটির থ্রাস্ট ক্ষমতা প্রায় ২,৫০০ কিলোটন, যা গত সেপ্টেম্বরের পরীক্ষার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ইঞ্জিন মূলত একাধিক ওয়ারহেড বহনকারী আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) তৈরির প্রকল্পের অংশ। সলিড-ফুয়েল বা কঠিন জ্বালানি ব্যবহারের ফলে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো খুব দ্রুত উৎক্ষেপণ করা সম্ভব, যা মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডার ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। কিম জং উন এই সফলতাকে দেশটির পাঁচ বছর মেয়াদী সামরিক আধুনিকায়ন পরিকল্পনার এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর লক্ষ্য স্পষ্ট—যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি স্থায়ী ও অভেদ্য পারমাণবিক সুরক্ষা কবচ তৈরি করা।
সম্প্রতি পার্লামেন্টে দেওয়া এক জ্বালাময়ী ভাষণে কিম জং উন ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে “রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও আগ্রাসনের” অভিযোগ তুলেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, উত্তর কোরিয়াকে একটি স্থায়ী পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হবে এবং নিরস্ত্রীকরণের কোনো শর্ত তারা মেনে নেবে না। ২০১৯ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে পিয়ংইয়ং তাদের সামরিক শক্তি প্রদর্শনে আগের চেয়ে অনেক বেশি আগ্রাসী হয়ে উঠেছে।
যদিও পশ্চিমা কিছু বিশেষজ্ঞ ওয়ারহেডগুলোর বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, তবে উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক অগ্রগতি সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে এই পরীক্ষা নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার মাঝে পিয়ংইয়ংয়ের এই শক্তি প্রদর্শন বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



