ইরানের সাথে চলমান উত্তপ্ত সংঘাতের মাঝেই বড় ধরনের হোঁচট খেল মার্কিন নৌবাহিনী। লোহিত সাগরের রণক্ষেত্র ছেড়ে মেরামতের জন্য গ্রিসের সুদা বে নৌঘাঁটির দিকে রওনা হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’। গত সপ্তাহে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, দীর্ঘ ৯ মাসের ক্লান্তি এবং জাহাজের অভ্যন্তরীণ পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এই দানবীয় জাহাজটি এখন কার্যত অচল। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বুধবার (১৮ মার্চ) এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, জাহাজের লন্ড্রি সেকশনে লাগা ৩০ ঘণ্টার আগুন নেভাতে গিয়ে প্রায় ২০০ নাবিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ধোঁয়ায় একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে হেলিকপ্টারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে নাবিকদের থাকার জায়গা ও লন্ড্রি সুবিধা ভস্মীভূত হওয়ায় ৪ হাজার ৫০০ ক্রুর দৈনন্দিন জীবন এখন দুর্বিষহ। এর ওপর যুক্ত হয়েছে জাহাজের ৬৫০টি শৌচাগারের যান্ত্রিক ত্রুটি। টয়লেট জ্যাম হওয়ার কারণে শত শত নাবিককে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, যা একটি আধুনিক রণতরীর জন্য নজিরবিহীন লজ্জা।
এই অমানবিক পরিস্থিতির জন্য মার্কিন সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার সরাসরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম না দিয়ে নাবিকদের ওপর ‘অমানুষিক চাপ’ সৃষ্টি করা হয়েছে। এমনকি জাহাজের ভেতরে কোনো অন্তর্ঘাত বা নাশকতার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিয়েও তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন নৌবাহিনী।
‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র মূল চালিকাশক্তি ছিল এই রণতরীটি, যেখান থেকে ইরানের প্রায় ৭ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। ফলে লোহিত সাগর থেকে এর বিদায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তিতে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করতে পারে। যদিও বিকল্প হিসেবে ‘ইউএসএস জর্জ এইচডব্লিউ বুশ’-কে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে, তবে ১৩ বিলিয়ন ডলারের ‘ফোর্ড’ কবে নাগাদ যুদ্ধে ফিরবে, তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।



