বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও বৃহত্তম মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ এক সপ্তাহ আগে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে, রণতরীটির লন্ড্রি সেকশন থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুন প্রায় ৩০ ঘণ্টা ধরে জ্বলেছে। বর্তমানে জাহাজটির অভ্যন্তরে বিরাজ করছে চরম বিশৃঙ্খলা। অগ্নিকাণ্ডের প্রভাবে আবাসন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অন্তত ৬০০ নাবিক এখন মেঝের ওপর অথবা ডাইনিং টেবিলে ঘুমাতে বাধ্য হচ্ছেন।
প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এই জাহাজটিতে অগ্নিকাণ্ডের ফলে ধোঁয়ায় অনেক সেনাই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। মার্কিন নৌবাহিনী বিষয়টিকে ‘যুদ্ধ-সংক্রান্ত নয়’ বলে দাবি করলেও, ইরান যুদ্ধের উত্তেজনার মাঝে লোহিত সাগরে মোতায়েন থাকা এই রণতরীর অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা এখন স্পষ্ট। দীর্ঘ ১০ মাস সাগরে অবস্থান এবং টয়লেট সমস্যার মতো পুরনো জটিলতাগুলো ৪ হাজার ৫০০ সেনার জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। যদি মে মাস পর্যন্ত এই মোতায়েন অব্যাহত থাকে, তবে তা হবে ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর কোনো মার্কিন রণতরীর দীর্ঘতম সময় সাগরে থাকার রেকর্ড।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালী সচল করতে মিত্র দেশগুলোর অনীহায় চরম ক্ষুব্ধ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “যাদের আমরা বহু বছর ধরে সাহায্য করেছি, তারাই এখন এই বিপদের সময় উৎসাহ দেখাচ্ছে না।” জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপের বেশ কিছু দেশ সরাসরি এই যুদ্ধে অংশ নিতে বা জাহাজ পাঠাতে অস্বীকার করেছে। ট্রাম্প একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ‘অকৃতজ্ঞতা’ হিসেবে দেখছেন।
এদিকে যুদ্ধক্ষেত্র এখন আরও বিস্তৃত হচ্ছে। সোমবার রাতে ইরান ইসরায়েলের তেল আবিব ও জেরুজালেমে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। শুধু ইসরায়েল নয়, দুবাইয়ের তেলক্ষেত্র এবং ইরাকের বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসেও বড় ধরনের হামলা হয়েছে। পাল্টাপাল্টি হামলায় লেবানন ও তেহরানের পূর্বাঞ্চলেও হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অনিয়ন্ত্রিত অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়েছে।



