― Advertisement ―

ইরান যুদ্ধের আবহে ওয়াশিংটনকে হারাতে চায় না ইউক্রেন: জেলেনস্কি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাম্প্রতিক বক্তব্যে এক ধরণের প্রচ্ছন্ন হাহাকার এবং কূটনৈতিক বাস্তববাদিতা ফুটে উঠেছে। শনিবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি যে অকপট স্বীকারোক্তি দিয়েছেন—”আমরা আমেরিকানদের হারাতে চাই না”—তা কেবল একটি রাজনৈতিক উক্তি নয়, বরং কিয়েভের টিকে থাকার লড়াইয়ের একটি নগ্ন সত্য। যখন বৈশ্বিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ইউক্রেন সীমান্ত থেকে সরে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত মরুভূমিতে, বিশেষ করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের দিকে নিবন্ধিত হচ্ছে, তখন জেলেনস্কির এই দুশ্চিন্তা অত্যন্ত যৌক্তিক।

পেন্টাগনের মনোযোগ এবং সামরিক রসদ যখন ভাগ হয়ে যাচ্ছে, তখন ইউক্রেনের আশঙ্কা—তারা কি তবে পশ্চিমাদের অগ্রাধিকার তালিকা থেকে নিচে নেমে যাচ্ছে? জেলেনস্কি খুব ভালো করেই জানেন যে, রাশিয়ার বিশাল সামরিক শক্তির সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে ওয়াশিংটনের সমর্থনই তাদের প্রধান অক্সিজেন। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে ইউক্রেনের ফ্রন্টলাইনগুলোতে গোলবারুদ আর অর্থ সরবরাহে ভাটা পড়তে পারে। এটি কেবল একটি যুদ্ধের গল্প নয়, বরং এক অসম শক্তির লড়াইয়ে মিত্রকে আঁকড়ে ধরে রাখার এক আকুল আবেদন।

এমবার্গোর বেড়াজাল পেরিয়ে রবিবার যখন এই সংবাদটি বিশ্ব গণমাধ্যমে এলো, তখন তা বিশ্বনেতাদের কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। জেলেনস্কি স্বীকার করে নিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এখন মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে ‘ব্যস্ত’। এই ব্যস্ততা কি ইউক্রেনের জন্য এক নিঃসঙ্গতার ইঙ্গিত? সংঘাতের এই নতুন সমীকরণে কিয়েভ এখন রাশিয়ার কামানের গোলার চেয়েও হয়তো ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের ‘মনোযোগ হারানো’কে বেশি ভয় পাচ্ছে।