মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ যখন বারুদের গন্ধে ভারী, ঠিক তখন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের দেওয়া তিনটি শর্ত বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোচনার খোরাক জোগাচ্ছে। যুদ্ধের ১২তম দিনে এসে ইরানের এই অবস্থান কেবল রক্ষণাত্মক নয়, বরং একে একটি কৌশলী রাজনৈতিক চাল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিলেও তেহরান যে তাদের দীর্ঘদিনের দাবিগুলো থেকে এক চুলও সরেনি, তা এই শর্তগুলোর গভীরতা বিশ্লেষণ করলেই স্পষ্ট হয়।
পারমাণবিক কর্মসূচির বৈধ স্বীকৃতি বা ভবিষ্যৎ হামলার গ্যারান্টির চেয়েও এখানে সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো ‘ক্ষতিপূরণ’ প্রদানের দাবি। ইরানের কোনো শীর্ষ নেতার মুখ থেকে যুদ্ধের মাঝপথে সরাসরি আর্থিক বা কাঠামোগত ক্ষতিপূরণ চাওয়ার বিষয়টি ইঙ্গিত দেয় যে, তেহরান এই যুদ্ধকে কেবল সামরিক নয়, বরং একটি আইনি ও নৈতিক লড়াই হিসেবে বিশ্বদরবারে উপস্থাপন করতে চাইছে। এনপিটি চুক্তির দোহাই দিয়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার রক্ষার দাবিটি ইরানকে তাদের অভ্যন্তরীণ জনমতের কাছে যেমন শক্তিশালী করছে, তেমনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও তৈরি করছে এক জটিল সমীকরণ।
তবে প্রশ্ন থেকে যায়, যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে, তখন এই শর্তগুলো কি কেবল আলোচনার টেবিলের জন্য, নাকি যুদ্ধের ময়দানে নিজেদের নৈতিক অবস্থান সুদৃঢ় করার চেষ্টা? রাশিয়া ও পাকিস্তানের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সাথে আলোচনার মাধ্যমে তেহরান যে একটি শক্তিশালী বলয় তৈরি করতে চাইছে, তা পেজেশকিয়ানের বক্তব্যেই পরিষ্কার। শেষ পর্যন্ত এই তিন শর্ত শান্তির পথ প্রশস্ত করবে নাকি শর্তের বেড়াজালে যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হবে, তা নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়ার ওপর।



