ইরানের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির সামনে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এক কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সম্প্রতি এক বিশেষ মূল্যায়নে স্বীকার করেছে যে, ইরান তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় অর্ধেক অংশেই বিধ্বংসী ‘ক্লাস্টার বোমা’ বা গুচ্ছবোমা ওয়ারহেড ব্যবহার করছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে আইডিএফ জানিয়েছে, তেহরানের এই নতুন কৌশল যুদ্ধের ময়দানে তাদের ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা মোকাবিলা করা বর্তমান প্রযুক্তিতে অত্যন্ত দুরুহ।
আইডিএফ-এর বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা করেছেন, এই বিশেষ ধরনের ওয়ারহেডগুলো লক্ষ্যবস্তুর আকাশে পৌঁছানোর পর কয়েক ডজন ক্ষুদ্র সাব-মিউনিশনে (ছোট বোমা) বিভক্ত হয়ে যায়। প্রতিটি ক্ষুদ্র বোমায় কয়েক কেজি উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক থাকে, যা প্রায় ১০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের বিশাল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চিত করতে সক্ষম। সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় এই গুচ্ছবোমাগুলো প্রতিহত করা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, মূল ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করা হলেও এর ভেতরে থাকা ক্ষুদ্র বোমাগুলো বৃষ্টির মতো নিচে পড়ে বিপর্যয় ঘটাতে পারে।
আইডিএফ-এর হোম ফ্রন্ট কমান্ডের তথ্যমতে, ইরান কেবল সামরিক স্থাপনা নয়, বরং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে। গত সোমবার মধ্য ইসরায়েলের একটি নির্মাণাধীন এলাকায় ক্লাস্টার বোমার আঘাতে দুজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর হলেও কোনো ব্যবস্থাই পুরোপুরি ‘নিচ্ছিদ্র’ নয়। একটি বড় ক্ষেপণাস্ত্রকে মাঝ আকাশে ধ্বংস করা সম্ভব হলেও শত শত ক্ষুদ্র বিস্ফোরককে আকাশেই নিষ্ক্রিয় করা বর্তমান প্রযুক্তিতে এক প্রকার দুঃসাধ্য।
প্রতিরক্ষা পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, ইরান বর্তমানে সংখ্যায় কম কিন্তু বিধ্বংসী ক্ষমতায় শ্রেষ্ঠ—এমন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কৌশল নিয়েছে। যদিও ধারণা করা হচ্ছে তেহরান বড় আকারের সমন্বিত হামলা চালাতে কিছুটা সমস্যার মুখে রয়েছে, তবুও তারা সীমিত হামলায় সর্বোচ্চ ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর জন্য এই ক্লাস্টার প্রযুক্তিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এটি কেবল সামরিক ভারসাম্যই নষ্ট করছে না, বরং ইসরায়েলের বেসামরিক জনগণের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।



