দক্ষিণ লেবাননের জনবহুল লোকালয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ‘হোয়াইট ফসফরাস’ অস্ত্র ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সোমবার (৯ মার্চ ২০২৬) প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, গত ৩ মার্চ লেবাননের ইয়োহমর শহরে আবাসিক ঘরবাড়ির ওপর আকাশ থেকে এই রাসায়নিক গোলা ছুড়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। নিউইয়র্কভিত্তিক এই সংগঠনটি অন্তত সাতটি আলোকচিত্র ও ভিডিও ফুটেজ যাচাই করে নিশ্চিত করেছে যে, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই ফসফরাস বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিধির চরম লঙ্ঘন।
হোয়াইট ফসফরাস মূলত এমন একটি রাসায়নিক উপাদান যা অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসামাত্রই প্রচণ্ডভাবে জ্বলে ওঠে। যুদ্ধক্ষেত্রে ধোঁয়ার আবরণ তৈরি করতে এটি ব্যবহৃত হলেও জনবসতিতে এর ব্যবহার ভয়াবহ পরিণাম ডেকে আনে। এই রাসায়নিক মানুষের চামড়া ও মাংস ভেদ করে হাড় পর্যন্ত পুড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে এবং এর ধোঁয়া শ্বাসযন্ত্রের অপূরণীয় ক্ষতি করে। ইয়োহমর শহরের ওই হামলার পর অন্তত দুটি বসতবাড়ি ও একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা সরাসরি বেসামরিক নাগরিকদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
২০২৪ সালের সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও লেবাননে হিজবুল্লাহর আস্তানা লক্ষ্য করে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। গত এক সপ্তাহ ধরে বিমান হামলার পাশাপাশি লিতানি নদীর দক্ষিণে স্থল অভিযানও জোরদার করা হয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, তারা ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর রকেট হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে। তবে লেবানন কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, সাম্প্রতিক এই সহিংসতায় ইতিমধ্যে প্রায় ৪০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ভিটেমাটি ছেড়ে পালিয়েছেন পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার সংঘাতকে আরও নৃশংস রূপ দিচ্ছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের গবেষক রামজি কাইস এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহকারী দেশগুলো তাদের সামরিক সহায়তা সাময়িকভাবে স্থগিত করে। আবাসিক এলাকায় এমন মরণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধে কার্যকর চাপ সৃষ্টি করা না হলে বেসামরিক লাশের মিছিল দীর্ঘতর হবে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন। লেবানন সরকারও দীর্ঘ সময় ধরে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এই নিষিদ্ধ রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগ করে আসছে, যা এখন বিশ্ববিবেকের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।



