বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকট ও ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে দেশের সব পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) রোববার (৮ মার্চ ২০২৬) রাতে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশের সব উপাচার্যকে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের অনুরোধ জানিয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) থেকেই এই আদেশ কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। মূলত জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং আসন্ন পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটির বিষয়টি মাথায় রেখেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে পাঠানো এক চিঠির সূত্র ধরে ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম এই আদেশ জারি করেন। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে জাতীয় স্বার্থে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়া অপরিহার্য। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশাল সংখ্যক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে প্রচুর বিদ্যুৎ ব্যয় হয়। এই চাপ কমাতেই একাডেমিক ক্যালেন্ডারের সাথে সমন্বয় করে ছুটি এগিয়ে আনার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি কেবল একটি প্রশাসনিক আদেশ নয়, বরং জাতীয় সংকট মোকাবিলায় একটি দায়িত্বশীল পদক্ষেপ।
মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ও দাপ্তরিক বিভাগগুলোতেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যবহারে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করতে হবে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী এবং ৯ মার্চ থেকে শুরু হওয়া রমজানের পবিত্রতা রক্ষা ও ঈদ উদযাপনের সুবিধার্থে এই দীর্ঘ ছুটির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ক্যালেন্ডারে উল্লেখিত তারিখ অনুযায়ী ঈদের ছুটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে প্রশাসনিক জরুরি কাজগুলো কীভাবে পরিচালিত হবে, তা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব পরিস্থিতির আলোকে নির্ধারণ করতে পারবে।
ইউজিসি সূত্র মারফত জানা গেছে, জ্বালানি সাশ্রয়ের এই নির্দেশনাটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কিছুটা স্বায়ত্তশাসনও দেওয়া হয়েছে। তারা তাদের পাঠদান বা একাডেমিক কার্যক্রমে প্রয়োজনে অনলাইন মাধ্যম বা অন্য কোনো উপায়ে সমন্বয় করতে পারবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে প্রধান লক্ষ্য হলো ক্যাম্পাসগুলোতে সরাসরি যাতায়াত ও অবস্থান কমিয়ে বিদ্যুতের লোড কমানো। এই সিদ্ধান্তের ফলে উচ্চশিক্ষা স্তরে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের একটি বড় প্রভাব পড়বে বলে আশা করছে সরকার।



