― Advertisement ―

সংবিধানের ৯ অনুচ্ছেদ রক্ষার ডাক; শ্রীলঙ্কায় বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ১০ দফা আল্টিমেটাম

শ্রীলঙ্কার রাজনীতি ও সমাজকাঠামোয় বৌদ্ধ ভিক্ষুদের প্রভাব চিরকালই অপরিসীম। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির বর্তমান সরকারের সঙ্গে ভিক্ষু সমাজের দূরত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রভাবশালী বৌদ্ধ ভিক্ষুরা অভিযোগ তুলেছেন যে, শ্রীলঙ্কার ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধধর্ম এবং ভিক্ষু সমাজকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য একটি “সংগঠিত অপপ্রচার” চালানো হচ্ছে। তাঁদের দাবি, স্বার্থান্বেষী কিছু গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ভিক্ষুদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে এবং সরকার এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

সম্প্রতি কলম্বোয় আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে বিভিন্ন প্রদেশের ভিক্ষুরা একত্রিত হয়ে সরকারের উদ্দেশ্যে ১০ দফা আল্টিমেটাম ঘোষণা করেন। সমাবেশের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ভিক্ষু মুরুথেত্তুওয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন যে, স্বয়ং প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে তাঁকে ফোন করে এই সমাবেশ স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছিলেন এবং আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে প্রেসিডেন্টের অনুরোধ উপেক্ষা করেই নির্ধারিত কর্মসূচি পালন করা হয়। ভিক্ষুদের অভিযোগ, রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য বৌদ্ধধর্মের মর্যাদাকে খাটো করা হচ্ছে, যা বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

ভিক্ষু সমাজ দেশটির সংবিধানের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেছেন, রাষ্ট্রপ্রধান এবং সরকারের প্রধান কাজ হলো বৌদ্ধধর্মের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। কারণ দেশটির প্রায় ৭৪ শতাংশ মানুষই এই ধর্মের অনুসারী। সাম্প্রতিক সময়ে ত্রিনকোমালিতে উপকূল সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ভিক্ষুদের গ্রেপ্তার করার ঘটনাটিকে তাঁরা ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হিসেবে দেখছেন। ভিক্ষুদের দাবি, স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের প্রভাবে এই গ্রেপ্তারগুলো হয়েছে, যা তাঁদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের শামিল। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি শ্রীলঙ্কার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক গভীর মেরুকরণের জন্ম দিয়েছে, যার প্রভাব আগামী নির্বাচনে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।