অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ক্রমবর্ধমান অভিযান এবং বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ফিলিস্তিনি শিশুদের প্রাণহানি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭০ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে, যা এক ভয়াবহ মানবিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মঙ্গলবার (১২ মে, ২০২৬) জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ায় শিশুদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সংস্থাটি।
ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এল্ডার এক বিবৃতিতে বলেন, পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেম জুড়ে সামরিক অভিযানের যে তীব্রতা দেখা যাচ্ছে, তার জন্য শিশুদের ‘অসহনীয় মূল্য’ দিতে হচ্ছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত যত শিশু নিহত হয়েছে, তার মধ্যে ৯৩ শতাংশ মৃত্যুর জন্য সরাসরি ইসরায়েলি বাহিনী দায়ী। এই উচ্চ হার প্রমাণ করে যে, সামরিক অভিযানের সময় বেসামরিক জানমালের নিরাপত্তা এবং শিশুদের জীবনের অধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে।
সহিংসতার এই ধারা কেবল জীবনের ইতি টানছে না, বরং শিশুদের দীর্ঘমেয়াদী মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রতিনিয়ত বন্দুকযুদ্ধ, ধরপাকড় এবং ভয়ের পরিবেশের মধ্যে বেড়ে ওঠা শিশুরা শিক্ষা ও স্বাভাবিক শৈশব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা এবং সামরিক অভিযান একযোগে বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মেনে চলার জন্য পুনরায় কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনো করুণা নয়, বরং এটি সব পক্ষের আইনি দায়বদ্ধতা বলে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে ইউনিসেফ। আন্তর্জাতিক মহলের দাবি, এই নিরপরাধ শিশুদের জীবন বাঁচাতে অবিলম্বে সামরিক অভিযান ও সহিংসতা বন্ধের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।



