ফেনীতে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র আহনাফ আল মাঈনকে (১০) অপহরণ ও হত্যার দায়ে তিন যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি, ২০২৬) দুপুরে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এন এম মোরশেদ খান এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। কোচিং থেকে ফেরার পথে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণের পর অপহরণকারীদের একজনকে চিনে ফেলায় শিশুটিকে নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর স্কুল থেকে ফেরার পথে অপহৃত হয় আহনাফ। এরপর অপহরণকারীদের পক্ষ থেকে তার বাবার কাছে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। তবে অপহরণের পর পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে তারা শিশুটিকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। এর চার দিন পর দেওয়ানগঞ্জ রেললাইনের পাশের একটি ডোবা থেকে আহনাফের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় পুরো জেলায় শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে আসে।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আশরাফ হোসেন চৌধুরী, মো. মোবারক হোসেন ও ওমর ফারুক। তাদের মধ্যে আশরাফ ফেনী পলিটেকনিকের ছাত্র এবং মোবারক একজন অটোরিকশাচালক। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় ২২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং আসামিদের ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে আদালত এই চূড়ান্ত দণ্ড প্রদান করেন। রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্তদের কড়া নিরাপত্তায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁসির আদেশে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আহনাফের বাবা মাঈন উদ্দিন। তিনি বলেন, “আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি। এখন সরকারের কাছে দাবি, এই রায় যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়।” সমাজের সচেতন মহলের মতে, এই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ভবিষ্যতে এ ধরনের নৃশংস অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



