বঙ্গোপসাগরের উত্তাল জলরাশিতে মাছ ধরতে গিয়ে ভুলবশত আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করে ভারতের হাতে আটক হয়েছিলেন ১২৮ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবী। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি, ২০২৬) তারা ফিরেছেন প্রিয় মাতৃভূমিতে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক প্রত্যাবাসন ব্যবস্থার অধীনে এই বিশাল সংখ্যক জেলেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। দুই দেশের কোস্ট গার্ডের মধ্যে সমুদ্রের মাঝপথে এক আবেগঘন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারতের হেফাজত থেকে কেবল মৎস্যজীবীরাই নন, বরং তাদের জীবন-জীবিকার প্রধান উৎস পাঁচটি ফিশিং বোট বা মাছ ধরার ট্রলারও ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সৌজন্য ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে আটক থাকা ২৩ জন ভারতীয় মৎস্যজীবী এবং তাদের দুটি ট্রলারকেও ভারতীয় কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরের আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা রেখায় দুই দেশের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই মানবিক বিনিময় প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়।
এই বিশাল কার্যক্রমটি সফল করতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র, মৎস্য ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়সহ কোস্ট গার্ড, বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। মূলত ঝোড়ো আবহাওয়া বা অসাবধানতাবশত সীমা অতিক্রমের কারণে এই মৎস্যজীবীরা একে অপরের দেশে আটক হয়েছিলেন। তাদের এই স্বদেশে প্রত্যাবর্তন কেবল দুই দেশের কূটনৈতিক আস্থারই প্রতিফলন নয়, বরং দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কেরও এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ফিরে আসা এই জেলেরা এখন তাদের পরিবারের কাছে ফিরে নতুন করে জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখছেন।



