― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

দেশের নিরাপত্তায় শঙ্কা বাড়াচ্ছে সীমান্ত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গুপ্ত হত্যা ও সহিংসতায় জড়িয়ে কেউ দেশত্যাগের চেষ্টা করতে পারে বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ পথে অস্ত্র চোরাচালান ও জাল টাকার কারবারিদের সক্রিয় হয়ে ওঠা আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনার পর থেকেই সীমান্ত নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়তে থাকে। ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর সহযোগী আলমগীর শেখ ভারতে পালিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রগুলো আরো বলছে, এর পর থেকে সীমান্তে কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি সরকারের আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি সভায় সীমান্ত নিয়ে এমন উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে।

এমন পরিস্থিতিতে দেশের সীমান্তবর্তী ২৭টি জেলায় বিশেষভাবে নজরদারির জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকেও (বিজিবি) আরও সতর্ক হতে বলা হয়েছে।

জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমান্তবর্তী ২৭টি জেলায় অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারে জড়িত ব্যক্তিদের তালিকা করেছে পুলিশ। ‘লাইনম্যান’ হিসেবে পরিচিত এমন ৭৮৭ ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে সেই তালিকায়।

এই জেলাগুলোতে বিশেষভাবে নজরদারি ও লাইনম্যানদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদারের নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলছেন, সীমান্ত অপরাধের বড় অংশের পেছনে রয়েছে তথাকথিত লাইনম্যানরা। তাঁদের বেশির ভাগই সীমান্ত এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা, যাঁদের দুর্গম পথ, নদী, চর ও পাহাড়ি ট্রেইল (পথ) সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রয়েছে।

গত ২৯ ডিসেম্বর রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেন, বাংলাদেশ থেকে যাতে কোনো অপরাধী, সন্ত্রাসী সীমান্ত দিয়ে পালাতে না পারে, সে বিষয়ে বিজিবিকে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এ সময় চোরাকারবারিদের সহায়তা করে কিংবা সাহায্য করে এমন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, সীমান্তে অবৈধ পারাপারের ক্ষেত্রে দুই ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। কেউ হয়তো অপরাধ করে সীমান্তের ওপারে চলে যেতে পারে। আবার ওপার থেকে অবৈধ পথে এসেও কেউ কেউ অপরাধে সংগঠিত করতে পারে।

গত ৬ নভেম্বর জাল নোট প্রতিরোধে সীমান্তে আভিযানিক তৎপরতা ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে বিজিবি। বাহিনীর সদর দপ্তর জানায়, এ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিজিবিকে তথ্য দিয়ে সহায়তারও অনুরোধ জানানো হয়।

অপরাধবিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, এপারে অপরাধ করে ওপারে আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ বহুদিনের। এ অবস্থা যে কোনোভাবেই হোক নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অপরাধীরা যদি মনে করে, অপরাধ করে পার পাওয়া যাবে, তাহলে বড় বিপদ হয়ে যাবে। এ জন্য সীমান্তে নজরদারি বাড়াতেই হবে।