আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকি স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি রেসিডেন্স হলে বন্দুকধারীর গুলিতে এক শিক্ষার্থী নিহত ও আরেকজন গুরুতর আহত হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেল ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, আটক হওয়া সন্দেহভাজন ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নন। ফ্র্যাঙ্কফোর্ট পুলিশের সহকারী প্রধান স্কট ট্রেসি সংবাদ সম্মেলনে জানান, দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
তিনি বলেন, “এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে আমরা বিশ্বাস করি, ক্যাম্পাসে আর কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই।”
স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, ডরমিটরি এলাকাজুড়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য ও ক্রাইম-সিন টেপ টানানো আছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হুইটনি এম ইয়াং জুনিয়র হলে গুলিবিদ্ধ হওয়া আহত শিক্ষার্থী আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকলেও স্থিতিশীল আছেন। তবে নিহত ও আহত শিক্ষার্থীদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং কাউন্সেলিংসহ সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
কেনটাকি অঙ্গরাজ্যের গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়ার সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও বার্তায় বলেন, “ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন বলে মনে হচ্ছে এবং কোনো চলমান হুমকি নেই। সহিংসতার কোনো স্থান নেই—না আমাদের অঙ্গরাজ্যে, না এই দেশে।”
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সপ্তাহজুড়ে সব ক্লাস, ফাইনাল পরীক্ষা এবং ক্যাম্পাস কার্যক্রম স্থগিত করেছে। শিক্ষার্থীরা চাইলে বাড়ি ফিরতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট কফি সি. আকাকপো একে ‘নির্বোধ ও হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “আমাদের একজন শিক্ষার্থীকে হারিয়েছি—এটা কোনো অভিভাবকের জন্য কল্পনাতীত বেদনা।”
উল্লেখ্য, গত আগস্টেও একই এলাকায় গাড়ি থেকে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে, যেখানে দুই ব্যক্তি আহত হয়েছিলেন। কেনটাকি স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় একটি ঐতিহাসিক কৃষ্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, যার ছাত্রসংখ্যা প্রায় ২,২০০।



