― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

রোহিঙ্গারা কি স্থায়ী হচ্ছে বাংলাদেশে?

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশে স্থায়ী অবকাঠামো তৈরি করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিশ্বব্যাংক এবং বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক সহায়তায় এ অবকাঠামো তৈরি করা হবে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

তবে কি বাংলাদেশে স্থায়ী হচ্ছে রোহিঙ্গারা? এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জনমনে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের যেন মানবেতর জীবন যাপন করতে না হয়, সে জন্য এই উদ্দ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, সমগ্র বিশ্বে প্রায় ৪৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন শরণার্থী নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে বিভিন্ন দেশে জীবন যাপন করে আসছে। এখানে উল্লেখযোগ্য একটি বিষয় হলো, বিশ্বজুড়ে নানাভাবে বাস্তুচ্যুত শরণার্থীদের আশ্রয় হয়েছে তার দেশের আশপাশে থাকা নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে।

শরণার্থীদের পরিচিতির রাজনীতির কারণেও শরণার্থীদের আরও বেশি অবহেলিত ও বৈষম্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে হয়। এর সঙ্গে আরও যুক্ত হয় আন্তর্জাতিক মহলের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ। যেমন ইউরোপের ইউক্রেনের বাস্তুচ্যুত শরণার্থীদের সারা বিশ্ব যে দৃষ্টিতে এবং গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে; বাংলাদেশ, মধ্যপ্রাচ্য কিংবা আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে বসবাসরত শরণার্থীদের সেভাবে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে না।

রোহিঙ্গা শরণার্থীরাও ধর্মে মুসলিম ও অর্থনৈতিকভাবে দরিদ্র হওয়ায় ‍উন্নত বিশ্ব তাদের ভাল দৃষ্টিতে বা গুরুত্বে সঙ্গে দেখছে না তা স্পস্ট বোঝা যাচ্ছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মিয়ানমারও বারবার ইতিবাচক আশ্বাস দিলেও তার প্রয়োগ আমরা দেখতে পারিনি। যে কারণে ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় দেওয়ার পর একজন রোহিঙ্গাও এখন পর্যন্ত নিজ দেশে ফেরত যেতে পারেনি।

এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের ষষ্ঠ বিমসটেকের বৈঠকের সময় মিয়ানমার থেকে একটি ইতিবাচক সাড়া আমরা দেখতে পাই, যা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য একটি আশার আলো ছিল। ওই আলোচনায় মিয়ানমারের উপপ্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী উ থান শিউ প্রাথমিকভাবে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন, যাদের মিয়ানমার নিজ দেশের বাসিন্দা বলে, তারা যাচাই করে নিশ্চিত হতে পেরেছে। তিনি আরও বলেছিলেন যে, দ্রুততার সঙ্গে বাকি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভেরিফিকেশন করা হবে।

২০১৮ সালেই মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনবিষয়ক একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল, যার বাস্তবায়ন আমরা কখনোই দেখতে পাইনি। উল্টো এখন রোহিঙ্গাদের জন্য স্থায়ী অবকাঠামো তৈরি করছে বাংলাদেশ সরকার।

গতকাল মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এসংক্রান্ত প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৩৬৩ কোটি টাকা।

বৈঠক সূত্রে জানা যাচ্ছে, বিশ্বব্যাংক এবং বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক সহায়তায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘হোস্ট অ্যান্ড এফডিএমএন এনহ্যান্সমেন্ট অব লাইভস থ্রু ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (হেল্প)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় হেল্প/ইউএন-১ প্যাকেজের কাজ ইউএন এজেন্সি আইওএমের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি।

সরকারের পক্ষথেকে বলা হচ্ছে, এই প্যাকেজের আওতায় কক্সবাজার জেলার দুর্যোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এফডিএমএন ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের প্রবেশাধিকার এবং নিরাপত্তা আরো উন্নত করা হবে।

এ বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, মায়ানমার বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের স্থাপনা ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ব্যাপারে একটা গ্রান্টের টাকা আছে, ওখান থেকে আমরা এটা করব।

অর্থ উপদেষ্টা তার বক্তব্যের শুরুতে রোহিঙ্গাদের রিফিউজি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা কাছে প্রশ্ন ছিলো, আমরা কি তাদের স্ট্যাটাস পরিবর্তন করেছি? জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, না না, ফোর্সডলি ডিসপ্লেসড রোহিঙ্গা। ওদের তো যথা শীঘ্রই আমরা পাঠাব। কিন্তু যে সময়টা আছে, একটা মানবেতর জীবন যাপন করা তো কারো কাম্য না। এটার জন্য একটা ইনফ্রাস্ট্রাকচার দিচ্ছে।

উপদেষ্টা আরো বলেন, আজকে আমি এ বিষয়ে ডিটেইল বলতে পারব না। আজকে ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স কমিটিতে এসেছে। স্পেসিফিক জিনিসটা ওরা নিয়ে আসবে।