― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

শেখ হাসিনার রায় ঘিরে সর্বোচ্চ সতর্কতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রায়ের দিন ধার্য রয়েছে। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ডেকেছে।

এ নিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশজুড়ে উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করছে। ইতোমধ্যেই অনেকগুলো যানবাহনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

পাশাপাশি আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নির্বাচন কমিশন এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ যত্রতত্র ককটেল বোমার বিস্ফোরণ হচ্ছে। আগুনে পুড়ে মারা গেছেন ঘুমন্ত বাসচালক।

সব মিলিয়ে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে সরকার। আজ সকাল থেকেই ঢাকার প্রতিটি মোড়েই দেখা গেছে র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের সতর্ক অবস্থান।

রাজধানীতে বিজিবির সতর্ক অবস্থান।

পাশাপাশি চলছে সাঁজোয়াযানের টহল। সাধারণ মানুষের চোখে-মুখে লক্ষ করা যাচ্ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা-আতঙ্কের ছাপ। উৎকণ্ঠা থেকে বিভিন্ন স্থানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাদের নিজ উদ্দ্যেগে শুরু হয়েছে অনলাইন ক্লাস।

রাস্তাঘাটে কমে গেছে যানবাহন চলাচল। সন্ধ্যার পর অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে ঢাকার রাস্তাঘাট। নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না অনেকেই।

এমন পরিস্থিতিতে গতকাল বুধবার পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সভা থেকে ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী সব জেলার এসপিকে মাঠে নামার নির্দেশ দেন। এর পরপরই তারা নেমে পড়েন মাঠে।

পুলিশ বলছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঢাকায় চোরাগোপ্তা ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে। তারা হ্যাক করতে পারে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট। আগের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ভিডিওকে বতর্মান সময়ের ভিডিও বলে প্রচার করতে পারে।

এআই ব্যবহার করে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও বানিয়ে চালাবে অপপ্রচার। বিশৃঙ্খলা চালাতে পারে আদালতে। বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোর মতপার্থক্য ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবকে কাজে লাগাতে তৎপর কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। তাদের মূল লক্ষ্য রাজধানী ঢাকা।

অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মাধ্যমে তারা দেশি-বিদেশি মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে নেতিবাচক ভাবমূর্তিও গড়তে চায়। ধ্বংসাত্মক কর্মসূচির মাধ্যমে বিচারপতি ও তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মনে ভয় ধরানোর প্রয়াস রয়েছে তাদের।

ভার্চুয়াল জগতকে তারা গুরুত্ব দিচ্ছে বেশি। তাদের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল কর্মসূচি আহ্বানের মূল উদ্দেশ্য হলো নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়া। যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটসহ বহিষ্কৃত যেসব নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে তাদের অনুসারীদের অপতৎপরতা তুলনামূলক বেশি বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তবে নগরবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী। তিনি বলেন, আমরা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা করেছি। নাশকতার সাথে যুক্ত কেউ পার পাবে না। আমরা এমনভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি, কেউ অপতৎপরতা চালানোর চেষ্টা করলেই ধরা পড়বে। বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে আমাদের কড়া অবস্থান রয়েছে।