নিজস্ব প্রতিবেদক
মায়ের মমতার তুলনা, পৃথিবীর কোন কিছুর সাথেই চলেনা। হয়তো পানিতে ডুবে অথবা অন্য কোনভাবে হাতি শাবকের মৃত্যু হয়েছে। পানিতে ভাসছিল শাবকটির মৃতদেহ। আর সেটি পাহারা দিচ্ছে শাবকটির মাসহ এ পাল হাতি।
গতকাল মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকালে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের কিনারায় মৃত হাতি শাবকটি দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। এরপর তারা বন বিভাগকে খবর দেয়। পরে ঘটনাস্থলে প্রাণিসম্পদ ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা গিয়ে উপস্থিত হন। তবে হাতির পাল শাবকটি পাহারা দেওয়ায় সেটি আজ বুধবার পৌনে ৩টা পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
বন বিভাগের কর্মীরা মৃত শাবকটি উদ্ধারের চেষ্টা করতে গেলেই তেড়ে আসছে হাতির পাল। এই দৃশ্য দেখতে ভিড় করছেন জেলার বরকল উপজেলার সুবলং ইউনিয়নের বরুণাছড়ি এলাকায় শত শত উৎসুক মানুষ।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের সুবলং রেঞ্জের কর্মকর্তা মতিউর রহমান বলেন, হালকা গোলাপি রঙের হস্তিশাবকটির বয়স প্রায় ৯ মাস। এটি এশিয়ান প্রজাতির হাতি। মৃত হাতি শাবকটি উদ্ধার করতে গতকাল থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরো বলেন, হাতির পালটি তাড়িয়ে শাবকটি উদ্ধার করলে হাতিগুলো ক্ষেপে যেতে পারে। এতে স্থানীয় এলাকার মানুষের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে হাতির পালটি তাড়ানোর চেষ্টা না করে অপেক্ষা করা হচ্ছে। মৃত হাতিটির ময়নাতদন্ত করলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। ধারণা করা হচ্ছে, পাহাড় থেকে নামার সময় পা পিছলে এটি পানিতে পড়ে আর উঠতে পারেনি।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুনে কাপ্তাই হ্রদ সাঁতরে পারাপারের সময় ভিডিওতে প্রথমবার এই হাতির শাবকটি দেখা যায়। এটির গায়ের রং হালকা গোলাপি। এই বিরল প্রজাতির হাতির অস্তিত্ব ধরা পড়লে সোশ্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে তোলপাড় হয়।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা তখন বলেছিলেন, বিভিন্ন প্রাণীর গায়ের অদ্ভুত রঙ কখনো কখনো হরমোনজনিত কারণে বা জিনগত বৈশিষ্ট্যের কারণে হয়, এবং এই শাবকটির ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।



