নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের নির্ধারিত সময়ের প্রায় আড়াই ঘণ্টা আগে আজ দুপুরে সংসদ ভবনের সামনে জড়ো হওয়া ‘জুলাই যোদ্ধা’ ব্যানারে কয়েকশো বিক্ষোভকারীকে ধাওয়া ও তাদের উপর লাঠিচার্জ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে ১০জন ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নিয়েছেন।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর ২টার পর থেকে আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। আহতরা হলেন সিনথিয়া মিম, শফিকুল ইসলাম, শফিউল্লাহ, হাবিব উল্লাহ, তানভিরুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, আতিকুল গাজী, রাকিব ও লাইলি। বিক্ষুব্ধদের অভিযোগ, সনদ প্রণয়নে তাদের পরামর্শ নেয়নি সরকার।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
জুলাই সনদ সংশোধন, সনদকে স্থায়ীভাবে সংবিধানে অন্তর্ভূক্ত করা এবং জুলাই যোদ্ধাদের স্বীকৃতির দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকেই সংসদ ভবনের মূল ফটকের বাইরে অবস্থান নেন বিক্ষোভকারীরা।

আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশের বাধা পেরিয়ে সংসদ ভবনের মূল ফটক টপকে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে বিক্ষোভকারীরা। পরে মূল ফটক উন্মুক্ত করে দেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
এসময় ভেতরে ঢুকে জুলাই সনদে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি করে রাখা মঞ্চের সামনে এসে অতিথিদের জন্য বরাদ্দ চেয়ারে বসে পড়েন ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দেওয়া বিক্ষোভকারীরা।

এক পর্যায়ে দুপুর ১টার দিকে মঞ্চে আসেন ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি আলী রিয়াজ। তিনি মঞ্চে উঠে ঘোষণাপত্র সংশোধন করে জুলাই আন্দোলনে আহত ও নিহতদের সুরক্ষা নিশ্চিতের আশ্বাস দেন। কিন্তু তাতেও আহতরা নিজেদের অবস্থান থেকে সরে না আসায় তাদের ধাওয়া দেয় পুলিশ এবং ধ্বস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
সহিংসতা শুরু
পুলিশের ধাওয়ায় আরো বিক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনের ১২ নম্বর গেট ভেঙে ফেলেন এবং কয়েকটি ট্রাক ও বাস ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেন। এরমধ্যে পুলিশের গাড়িও ছিল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ছোড়ে। অপরদিকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোঁড়া শুরু করে আন্দোলনকারীরা। পরে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে। চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াও। আগুন, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সাউন্ডগ্রেনেডের শব্দে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

বেলা আড়াইটা পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও বিক্ষোভকারীরা মুখোমুখি অবস্থানে ছিল এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। তবে দুপুরের পরে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
প্রসঙ্গত, আজ শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বেলা চারটায় জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে জুলাই সনদ স্বাক্ষর হবার কথা রয়েছে।



