আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুদ্ধবিরতি কার্যকরের খবরে বিধ্বস্ত বাড়িঘরে ফিরতে শুরু করেছেন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা। গতকাল শুক্রবার মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থীশিবির থেকে ফিলিস্তিনিরা গাজা নগরীর দিকে ফিরছিলেন। ধ্বংসস্তূপের ভেতর দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে তাদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে দেখা যায়।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় টানা বর্বরতা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এর মধ্যে মাত্র দুই মাসের কিছুটা বেশি সময় যুদ্ধবিরতি ছিল। বাকি সময়ে উপত্যকাটিতে নির্বিচার হামলা চালিয়ে ৬৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। আহত প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ।

একে জাতিগত নিধন বলে গত মাসে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
গাজা কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন সংস্থার তথ্যমতে, দুই বছরে ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় গাজায় ৪ লাখ ৩৬ হাজারের বেশি বা ৯২ শতাংশ ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। স্কুল ধ্বংস হয়েছে ৫১৮টি। ফলে শিক্ষাবঞ্চিত হচ্ছে প্রায় ৭ লাখ ৪৫ হাজার শিক্ষার্থী। ৬৫৪টি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গতকাল মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থীশিবির থেকে ফিলিস্তিনিরা গাজা নগরীর দিকে ফিরছিলেন। মেহেদি সাকলা নামের এক ফিলিস্তিনি বলেন, ‘জানি সব বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। তবু ফিরতে পেরে আমরা খুশি। পালিয়ে বেড়াতে গিয়ে দুই বছর ধরে আমাদের কম ভুগতে হয়নি।’
এদিকে, চুক্তি অনুযায়ী, উপত্যকাটির নির্দিষ্ট এলাকা থেকে সেনা সরিয়ে নিতে শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
তবে গতকালও গাজার আকাশে দেখা গেছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার। কোথাও কোথাও ট্যাংক, কামান ও গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। এতে এখনো অনেক ফিলিস্তিনিই নিজেদের ঘরবাড়িতে ফিরে যেতে ভয় পাচ্ছেন।



