― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

আবারও নদীতে চলবে ভাসমান প্রাসাদ

নিজস্ব প্রতিবদেক
ধান-নদী-খাল, এই তিনে বরিশাল। সেই বরিশালের নদীর বুকে আবারও ভেসে বেড়াবে বন্ধ হয়ে যাওয়া ভাসমান প্রাসাদ বা প্যাডেল স্টিমার। যার হুইসেলের শব্দে আবারও নদীপাড়ের মানুষ বিমোহিত হবেন।

জানা যায়, ব্রিটিশ আমলেই শুরু হয়েছিল স্টিমারের এই জলযাত্রা। এটি তখন ছিল নদীমাতৃক বাংলার ঐতিহ্য। কিন্তু ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর থেমে যায় স্টিমারের চলাচল। ঢাকার কদমতলীর ঘাটে পড়ে থাকে অস্ট্রিচ, মাহসুদ, লেপচা, টার্ন নামের স্টিমারগুলো। যেন নদীর বুকে স্টিমারের সমাধি।

তবে গত শনিবার এ বিষয়ে এক আশার বানী শুনিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, আবার চালু হচ্ছে স্টিমারসেবা। আগামী অক্টোবর মাস থেকে এ জাহাজ চলাচল আবার শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এই ঘোষণার পর থেকেই নগরের বাতাসে যেন ফিরে এসেছে পুরোনো সেই সুর, ছলাৎ ছলাৎ তরঙ্গ, হুইসেলের গর্জন আর যাত্রার উত্তেজনা।

স্টিমার ও লঞ্চ—উভয়ই নৌযান। কিন্তু তারা যেন ভিন্ন দুই সময়ের প্রতিনিধি। স্টিমার ছিল একধরনের ভাসমান প্রাসাদ; যার চালনা শক্তি ছিল শুরুতে কয়লার আগুনে সৃষ্ট বাষ্পে, পরে ডিজেলে। এর বড় বৈশিষ্ট্য ছিল বিশালাকার প্যাডেল হুইল। কাঠের অভ্যন্তর, দোতলা কাঠামো, প্রশস্ত বারান্দা ও প্রথাগত আসবাব স্টিমারের যাত্রাকে করে তুলত স্মৃতিময়।

১৮৮৪ সালে বাংলার নদীপথে নামানো হয় কয়লাচালিত স্টিমার। নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা হয়ে খুলনা পর্যন্ত যাতায়াত করত এসব জাহাজ। পথে চাঁদপুর, বরিশাল, ঝালকাঠি, মোরেলগঞ্জসহ নানা ঘাটে থামত। তখন ফ্লোটিলা কোম্পানির বহরে ছিল ১৪টি স্টিমার। পরে যুক্ত হয় অস্ট্রিচ, মাহসুদ, লেপচা, টার্নসহ আরো কয়েকটি।

কিন্তু পদ্মা সেতুর উদ্বোধন, সড়ক যোগাযোগের উন্নতি, লঞ্চমালিকদের দাপট আর জ্বালানি খরচ মিলিয়ে ক্রমেই থামতে শুরু করে স্টিমারের যাত্রা। ২০১৯ থেকে সীমিত চলাচল এবং ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর শেষবারের মতো ঢাকা ছাড়ে এমভি মধুমতি ও এমভি বাঙ্গালি।

বরিশাল যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক দেওয়ান আবদুর রশিদ এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, ব্রিটিশ আমলের এই প্রযুক্তিগত বিস্ময় ও স্মৃতিচিহ্নগুলোকে জাদুঘর বা পর্যটনভিত্তিক ভাসমান সংগ্রহশালায় রূপান্তর করা প্রয়োজন। এগুলো সভ্যতার চিহ্ন।

বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামান বলেন, দুটি স্টিমার চালুর ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের ওয়েস্টার্ন মেরিনে দুটি জাহাজ নির্মাণ শেষে সার্ভে প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষমাণ।

তবে ঠিক কবে নাগাদ চালু হবে, সপ্তাহে কত দিন চলবে ও ঢাকা থেকে গন্তব্য কোন পর্যন্ত হবে এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।