― Advertisement ―

নেপালের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সেনাবাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
তরুণদের বিক্ষোভের জেরে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি পদত্যাগের পর আত্মগোপনে চলে গেছেন। এরপর দেশটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সেনাবাহিনী।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী অলি অনেকটা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো আন্দোলনের মুখে একটি হেলিকপ্টারে করে সরকারি বাসভবন ত্যাগ করেন।

এদিকে সহিংস পরিস্থিতি শান্ত করতে দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেল একটি ভিডিওবার্তা দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত ২ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওবার্তায় তিনি নাগরিকদের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি পদত্যাগের আগেই তার মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যও পদত্যাগ করায় নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়েছে দেশটির মন্ত্রী পরিষদ। এছাড়া, দেশটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অজ্ঞাত স্থানে রয়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়লে গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টা থেকে দেশটির আইনশৃঙ্খলার নিয়ন্ত্রণ নেয় সেনাবাহিনী।

পদত্যাগের ঘোষণার আগেই ভক্তপুরের বালকোট এলাকায় অলির ব্যক্তিগত বাসভবনে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা।

শুধু অলির বাড়ি নয়, এদিন একে একে হামলা হয় ক্ষমতাসীন জোটের শরিক কংগ্রেস পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ কয়েকজন মন্ত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের বাড়িতেও।

দিনভর দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও পর্যটনস্থলে হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। অস্ত্র লুটপাট ও কারাগারে হামলা করে বন্দীদের মুক্ত করার ঘটনাও ঘটেছে।

চলমান সংকট নিরসনে দেশটিতে শিগগিরই বাংলাদেশের আদলে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হতে পারে, যার নেতৃত্বে থাকতে পারেন আন্দোলনের প্রতিনিধিরা।

এদিকে সব পক্ষকে সংলাপের পথে এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করেন সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেল।