― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

আসছে ‘ভোট বিরোধী জোট’

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় শক্তি বিএনপি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের মাঠের শক্তিধর বিএনপিকে মোকাবেলায় বড় জোট গঠনের জন্য তৎপরতা বাড়িয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

বিএনপিকে দুর্বল করতে জাতীয় নির্বাচনের সময় বাড়নোসহ বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে চলছে এই জোট গঠনের প্রক্রিয়া।

এদিকে, যত দ্রুত সম্ভব সংসদ নির্বাচন চায় বিএনপি। গত বছরের গণঅভ্যুত্থানের তিনদিন পর পল্টনে এক সমাবেশে বিএনপি নেতারা বলেছিলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন করতে।

জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নেতারা বলছেন, অন্তত ২০-২২টি দলের সমন্বয়ে একটি বড় জোট গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। এ জন্য দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত কথা হচ্ছে।

জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত ও এনসিপি সুবিধাজনক ফল প্রত্যাশা করছে। এজন্য তাদের অন্তত এক বছর সময় দরকার। ফলে বিভিন্ন ইস্যু দিয়ে নির্বাচনের জন্য আরও এক বছর সময় পেতে চায় দল দুইটি।

সম্প্রতি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে।

নতুন জোটে বিএনপি’র মূল প্রতিপক্ষ তাদের এক সময়ের মিত্র জামায়াতে ইসলামী।

এমন পরিস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাজনৈতিক দলগুলোকে ডেকে বৈঠক করেও সমাধানে আসতে পারছেন না। নির্বাচন ইস্যুতে দূরত্ব থেকেই যাচ্ছে। সেটি ঘোচাতে না পেরে বিএনপির নির্বাচনের দাবি আমলে নিয়ে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। সেই ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও উত্তাপ বাড়িয়েছে।

এদিকে, সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে (পিআর) নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়া এই দাবি দুইটি জামায়াত ও এনসিপিকে রাজনীতির মাঠে কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। ফলে দুই দলেই রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে এখন একসঙ্গে পথ চলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জামায়াতের নেতৃত্বে মাঠে আসতে যাওয়া নতুন এ জোট বিএনপির মোকাবেলা করেই রাজনীতি করতে চায়। ভোটবিরোধী জোটে সব ধর্মভিত্তিক দল, নাগরিক ঐক্য, এবি পার্টি ও গণ অধিকার পরিষদসহ আরও বেশ কয়েকটি দলকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা বলেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হতে পারে। সেই বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে জোট গঠনের আলাপ-আলোচনায়। তাই ডিসেম্বরের শুরুতে ভোটের তফসিল দিলে তার আগেই আত্মপ্রকাশ ঘটতে পারে এই জোটের।

জামায়াতের গুরুত্বপূর্ণ এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, শুধু ভোটের জন্যই জুলাই অভ্যুত্থান হয়নি। ভোটের চেয়েও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে, যা এখনো করা যায়নি। তিনি বলেন, বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য জুলাই আন্দোলন সংঘটিত হয়নি।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘দেশ গভীর সংকটে রয়েছে বলে তাই সবাইকে ধৈর্য রাখতে হবে। পরস্পরের প্রতি আস্থা রেখে দেশের কথা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

মাহমুদুর রহমান মান্না গতকাল এক অনুষ্ঠানে আরও বলেন, ‘ভালো নির্বাচন নিশ্চিত করা সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব। রাজনৈতিক দল যত বড় তার দায়িত্ব তত বেশি। এ নির্বাচন যাতে হয়, সে ব্যাপারে গ্যারান্টি বা দায়িত্ব বিএনপিকে দিতে হবে এবং জামায়াতকেও দিতে হবে। আর যাদের দল আছে তাদেরও দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘যেদিন ভোট হবে সেদিন যার যেখানে শক্তি আছে, তার যদি মনে হয় যে আমি জিততে পারব না, উনি গিয়ে ব্যালট বাক্সগুলো নিয়ে বাড়িতে চলে গেল। পুলিশ কি বাধা দেবে? এ প্রশ্নগুলো সমাধান না করে, সংস্কার বলেন আর অন্য যে কথাই বলেন, একটা কথারও মূল্যায়ন হবে না।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সংসদীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যার মাধ্যমে জাতির আশা-আকাঙ্খা পূরণ হবে।’