নিজস্ব প্রতিবেদক
আগামী পরশু অর্থ্যাৎ ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। ইতোমধ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত সব আইনি জটিলতা নিরসন হয়েছে৷
এদিকে নির্বাচন কেন্দ্র করে প্রার্থীদের ছাত্র সমর্থনের ওপর ভিত্তি করে দুই জরিপে ফলাফল প্রকাশ করেছে ন্যারেটিভ ও সোচ্চার নামের দুটি প্ল্যাটফর্ম।
জরিপে ডাকসুর নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পক্ষে আগ্রহ দেখিয়েছেন ৯৫ ভাগ আর অনাগ্রহ রয়েছে মাত্র ৫ ভাগ শিক্ষার্থীর। আর দুই জরিপেই ছাত্রশিবির এগিয়ে রয়েছে বলে উঠে এসেছে বলে জানা গেছে।
তবে এ জরিপের প্রার্থীদের সমর্থনের ফলাফল নিয়ে নানান প্রশ্ন তুলেছেন একাধিক প্রার্থীরা৷
জরিপে প্রশ্ন ছিল:
জরিপে প্রশ্ন ছিল ডাকসু নির্বাচনের শুধু তিন শীর্ষ পদ হিসেবে সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) নিয়ে।
ভিপি পদে কাকে ভোট দেবেন?
এই প্রশ্নের জবাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। আর বাকি ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী জরিপে কোন সিদ্ধান্ত দেননি ।
৭৫ শতাংশ সিদ্ধান্তের মধ্যে ভিপি পদে প্রায় ৪২ শতাংশ শিবির–সমর্থিত প্যানেল ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের আবু সাদিক কায়েমকে ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন বলে দাবি করেছে জরিপকারী ন্যারেটিভ। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী শামীম হোসেনকে ভোট দেবেন সাড়ে ১৬ শতাংশ শিক্ষার্থী।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খানকে ১৪ এবং স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্যের প্রার্থী উমামা ফাতেমাকে প্রায় ৯ শতাংশ, ৮ শতাংশ শিক্ষার্থী বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের ভিপি প্রার্থী আবদুল কাদেরকে ভোট দেওয়ার কথা বলা হয়েছে ।
অন্য প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন ১১ শতাংশ শিক্ষার্থী বলে জানিয়ে জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন ন্যারেটিভের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ রুহেল।
জিএস পদে কাকে ভোট দেবেন?
জবাবে ৬৬ শতাংশ শিক্ষার্থী শিবিরের এস এম ফরহাদকে সাড়ে ৩২, ছাত্রদলের শেখ তানভীর বারি হামিমকে ১৬, স্বতন্ত্র প্রার্থী আরাফাত চৌধুরীকে ১৬, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের আবু বাকের মজুমদারকে প্রায় ১৪ ও সাত বাম ছাত্রসংগঠনের যৌথ প্যানেল প্রতিরোধ পর্ষদের মেঘমল্লার বসুর পক্ষে ৯ শতাংশ ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন। এই পদে অন্য প্রার্থীরা পাবেন সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট।
এছাড়াও জরিপে প্রশ্ন করা হয় এজিএস নিয়ে:
উত্তরে ৫৯ শতাংশ শিক্ষার্থী দাবি করেছেন এজিএস পদে শিবিরের মুহা. মহিউদ্দীন খান প্রায় ৫৩ শতাংশ ভোট, ছাত্রদলের তানভীর আল হাদী মায়েদ প্রায় ১৬, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের আশরেফা খাতুন ৯, বামদের প্রতিরোধ পর্ষদের জাবির আহমেদ জুবেল ৪, সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদের ফাতেহা শারমীন (এ্যানি) ৪ এবং অন্য প্রার্থীরা ১৪ শতাংশ ভোট পাবেন বলে জরিপে উঠে এসেছে।
কিন্তু জরিপের প্রতিবেদনে কিছু ক্ষেত্রে শতাংশকে পূর্ণ সংখ্যায় দেখানো হয়েছে।
বামপন্থী সাত ছাত্রসংগঠন সমর্থিত প্রতিরোধ পর্ষদের ভিপি প্রার্থী শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি গণমাধ্যমে কে বলেন, অনলাইনে গিয়ে তো শিবির ছাড়া কিছু দেখা যায় না। তাদের এত এত ভুয়া ফেসবুক আইডি কিন্তু বাস্তব চিত্র তো ভিন্ন দেখছি।
এদিকে জরিপ দুটি শিবিরের দ্বারা প্রভাবিত বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন ডাকসু নির্বাচনে শিবিরের প্যানেলের এজিএস প্রার্থী মহিউদ্দীন খান ।
জরিপে শিবিরের প্রার্থীরা অনেক বেশি এগিয়ে রয়েছেন বলে উঠে এসেছে। যদিও তাঁর মত, এত বেশি পার্থক্য হওয়ার কথা নয়।
শিবিরের নিজেদের লোকজন এসব জরিপ করে তাতে নিজেদের এগিয়ে রেখেছেন বলে জানিয়েছেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান৷
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এসব বিষয়ে বিভ্রান্ত হবেন না। তাঁরা ব্যালটের মাধ্যমে এর প্রমাণ দেবেন বলেও জানান তিনি ।
জরিপ সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক তৌহিদুল হক এক গণমাধ্যম কে জানিয়েছেন বলেন, জরিপে শিক্ষার্থীদের দৈবচয়নের ভিত্তিতে সবার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হলে তার একটা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হতো।
নির্বাচনের আগে ভোটারদের মনোজগৎকে প্রভাবিত করার জন্য এ ধরনের জরিপ করা হয়ে থাকে বলেও জানান তিনি।
এর আগে শুক্রবার সোচ্চার নামের একটি সংগঠন একটি জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে। অনলাইনে গুগল ফরমের মাধ্যমে গত ১ থেকে ২০ আগস্ট ৯৯১ জনের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
জরিপটিতে শুধু ভিপি পদে কোন সংগঠনের প্রার্থীর বিজয়ী হবে তার মতামত প্রকাশ করা হয়।
শিবিরের প্রার্থীর প্রতি সমর্থন রয়েছে ৩২ শতাংশ শিক্ষার্থীর। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতি সমর্থন রয়েছে ২২ শতাংশের। ছাত্রদলের প্রার্থীর প্রতি সমর্থন রয়েছে ৭ শতাংশ শিক্ষার্থীর।
এছাড়াও ৩৪ শতাংশ শিক্ষার্থী বলেছেন, তাঁদের কোনো মতামত নেই।
ন্যারেটিভের জরিপের তথ্যের প্রক্রিয়া:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলসংখ্যা ১৯ টির মধ্যে ছাত্রদের ১৪টি আর ছাত্রীদের ৫টি। জরিপে ছেলেদের ১০টি ও মেয়েদের ৪টি তথ্য থেকে নমুনা নেওয়া হয়েছে।
তবে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের মতামত নেওয়া হয়নি। ভোটারদের বেশির ভাগ অনাবাসিক।
প্রসঙ্গত: গতমাসের ৩০ আগস্ট থেকে চলতি মাসের ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জরিপে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
টিবিএম/জ/রা



