নিজস্ব প্রতিবেদক:
২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এই পটপরিবর্তনের পর বিএনপি ও জামায়াত সম্পর্কের দূরত্ব ক্রমে বাড়ছে।
জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে বিএনপির নির্বাচনী জোটের কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। জামায়াতের সঙ্গে আবার জোট হবে কিনা এ ব্যাপারে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোন বিবৃতি দেখা যায়নি।
সালাহউদ্দিন আহমদের সাক্ষাৎকার:
গতকাল শুক্রবার সালাহউদ্দিন আহমদ একটি বার্তা সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘অতীতে রাজনৈতিক কৌশলগত কারণে আমরা জামায়াতের সঙ্গে জোট করেছি কিন্তু এবার তাদের সঙ্গে জোট গঠনের প্রয়োজন অনুভব করছি না।
বিএনপি এখন মূলত সেই দলগুলোর সঙ্গে জোট ও জাতীয় সরকার গঠনে মনোযোগী, যারা একযোগে আন্দোলনে এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামে অংশ নিয়েছে। এখন এর বাইরে কিছু ভাবা হচ্ছে না বলেও জানান বিএনপির সিনিয়র এই নেতা।
যেভাবে শুরু হয়েছিল বিএনপি-জামায়াত জোট:
বাংলাদেশে ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর সেই নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপিকে সমর্থন দিয়ে সরকার গঠনে সহায়তা করেছিলো জামায়াত। এরপর থেকে দল দুটির সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হতে হতে অবশেষে ১৯৯৯ সালের শুরুতে এসে আনুষ্ঠানিক জোট গঠন করে।
অর্থ্যাৎ ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়, বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপির সাথে ১৯৯৯ সালে জোট বাঁধে জামায়াতে ইসলাম। এরপর এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামি ঐক্যজোটকে নিয়ে চার দলীয় জোট গঠন করে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি।
আবার এই জোটই ২০০১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় গেলে প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় জায়গা পান জামায়াতের দুই নেতা- মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুজাহিদ।
এরপর ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একসাথে অংশ নেয় বিএনপি-জামায়াত । কিন্তু এই নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট আর সরকার গঠন করতে পারেনি। এরপর রাজনৈতিক নানা সমীকরণে ২০২২ সালে বিএনপি-জামায়াত আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ভেঙে দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের যুগপৎ আন্দোলনে শুরু করে।
জামাতের অবস্থান:
এবছর (২০২৫) রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন ও প্রতিক ফিরে পায় জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামপন্থি দলগুলো নিয়ে ‘নির্বাচনি ঐক্য’ গঠনের চেষ্টা করে সামনে এগোতে চায় জামায়াতে ইসলামী। তবে জোট নিয়ে তাদের বক্তব্য স্পষ্ট করেনি দলটি।
জোটের তালিকায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মসলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি ও খেলাফত মজলিস এই দলগুলো রয়েছে।
একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছিলেন, ইসলামপন্থী দলগলোর সাথে জোট গঠনের প্রাথমিক আলাপ তারা এগিয়ে রেখেছেন।
আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের বিরোধ :
১৯৮৬ সালে এরশাদের পাতানো নির্বাচনে বিএনপিকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত একসাথে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল এবং সংসদেও যোগ দিয়েছিল। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনে জামায়াত বিএনপিকে সমর্থন দিলে জামায়াতের উপর ক্ষুব্ধ হয় আওয়ামী লীগ।
আবার জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি ঘটিয়ে ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়কের দাবিতে তৎকালীন বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলো আওয়ামী লীগ। কিন্তু একই বছর ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর আবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়।
অবশেষে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক চাপে ২০১৩ সালে হাইকোর্ট জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে। যার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালে তা বাতিল করে নির্বাচন কমিশন।
টিবিএম /জ/রা



