― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

সঠিক মূল্যায়নে এসএসসিতে বরিশাল বোর্ডে ফল ‘বিপর্যয়’

বিশেষ প্রতিনিধিঃ
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে পাশের হার এবং জিপিএ-৫-এর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় নাটকীয়ভাবে কমেছে। বোর্ডের চেয়ারম্যান ফলাফল ঘোষণার সময় বলেছেন, ভবিষ্যতে আরও উন্নত ফল এবং মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

এ বছর বরিশাল বোর্ডে পাশের হার ৫৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ, যা ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ কম। গত বছর পাশের হার ছিল ৮৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। একইভাবে, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমে গেছে অর্ধেকে। ২০২৩ সালে যেখানে ৬ হাজার ১৪৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল, ২০২৪ সালে এই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩ হাজার ১১৪ জনে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউনুস আলী সিদ্দিকী আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জিএম শহিদুল ইসলাম। ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীরা মোবাইল এসএমএস ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিজ নিজ ফল জানতে শুরু করেন।

ফলাফলে এবারও মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে ভালো করেছে। মেয়েদের পাশের হার ৬৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ, যেখানে ছেলেদের পাশের হার মাত্র ৪৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এমনকি জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যায়ও মেয়েরা এগিয়ে। এ বছর মেয়েদের মধ্যে এক হাজার ৬৮৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে, যেখানে ছেলেদের সংখ্যা এক হাজার ৪২৯ জন। এই প্রবণতা শুধু এ বছর নয়, গত চার বছর ধরেই অব্যাহত রয়েছে। ২০২২ সালে বরিশাল বোর্ডে ৬ হাজার ১৮৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল, যার মধ্যে ছাত্রী ছিল ৩ হাজার ৫৮১ জন। ২০২৩ সালে ৬ হাজার ৩১১ জনের মধ্যে ছাত্রী ছিল ৩ হাজার ৬৫৫ জন এবং ২০২৪ সালে ৬ হাজার ১৪৫ জনের মধ্যে ছাত্রী ছিল ৩ হাজার ৫১৫ জন।

মেয়েদের এই ধারাবাহিক অগ্রগতি প্রসঙ্গে বরিশাল বিএম কলেজের সাবেক অধ্যাপক ও মহিলা পরিষদের জেলা সভাপতি শাহ সাজেদা বলেন, “নারীরা সুযোগ পেলে যে সকল ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে পারে, এটি তারই বাস্তব উদাহরণ। নারী শিক্ষার সম্প্রসারণ শুধু একটি সমাজ নয়, গোটা জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।”

ফলাফলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এই বছর ১ হাজার ৫০২টি বিদ্যালয় থেকে ৮২ হাজার ৯৩১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ৪৬ হাজার ৭৫৮ জন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। ১৯৪টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় ১৭টি বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করলেও, ১৬টি বিদ্যালয়ে কেউই পাস করতে পারেনি—যা শিক্ষার মান নিয়ে গভীর প্রশ্ন তোলে।

পাসের হারের দিক থেকে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার মধ্যে এবারও পিরোজপুর জেলা শীর্ষে রয়েছে। এ জেলায় পাশের হার ৬৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ, যদিও সেটিও গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। পিরোজপুরে ২০২৩ সালে পাশের হার ছিল ৯০ দশমিক ৯৭ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বরিশাল জেলার পাশের হার ৫৭ দশমিক ২০, পটুয়াখালী ৫৫ দশমিক ৭২, ভোলা ৫৪ দশমিক ৭০, ঝালকাঠি ৫১ দশমিক ৭৭ এবং সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে বরগুনা জেলা, যার পাশের হার মাত্র ৫০ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

বিভাগভিত্তিক ফলাফলে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে ভালো করেছে। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৯২০ জন। মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৫৯২ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে মাত্র ৩৫ জন। পাশের হারেও বিজ্ঞান বিভাগ এগিয়ে রয়েছে, এরপর রয়েছে ব্যবসায় শিক্ষা এবং মানবিক বিভাগ।

ফলাফল ঘোষণাকালে বোর্ড চেয়ারম্যান ইউনুস আলী সিদ্দিকী বলেন, “শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই এ ফলাফল এসেছে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত ফল এবং মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”