নিজস্ব প্রতিবেদক: কার্যালয়ের নিজস্ব ভবন ভাঙচুরের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তের গ্রেফতার দাবি জানিয়ে ফার্মেসী বন্ধ করে ধর্মঘট ডেকেছে বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির বরিশাল জেলার নেতাকর্মীরা।
রোববার বিকেল ৫টার দিকে বরিশাল নগরীতে মাইকিং করে সব ওষুধের দোকান বন্ধ করে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। এতে নগরীর ৫০০টির অধিক ও জেলার কয়েক হাজার ওষুধের দোকান বন্ধ হয়ে যায়, ফলে জনসাধারণ চরম দুর্ভোগে পড়েন।
এর আগে, রোববার ভোর রাতে বরিশাল নগরীর সদর রোডে দুই ঘণ্টা ধরে সমিতির অফিস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। দুপুরে কোতয়ালী মডেল থানায় ৪ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন সংগঠনের নেতা আবদুস সালাম।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত পাশ্ববর্তী পর্যটন হোটেল মালিক ইকবাল আজমকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা। তিনি গ্রেফতার না হলে সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির নেতা আবদুস সালাম।

সমিতির কম্পিউটার অপারেটর দেবাশীষ হালদার বলেন, পাশ্ববর্তী পর্যটন হোটেল মালিক ইকবাল আজম সমিতির নিজস্ব ভবনের জমির মালিকানা দাবি করে পর্যায়ক্রমে ২১টি মিথ্যা মামলা করেছেন। আমাদের বৈধ ক্রয় দলিল থাকা সত্ত্বেও তিনি অফিসের জমি নিজের দাবি করে ভাঙচুর করেছেন এবং নগদ অর্থ নিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় আমাদের দুই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে সন্ধ্যার দিকে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রোগীর স্বজনরা ওষুধ না পেয়ে হাসপাতালের সামনে দীর্ঘ সময় ধরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে রাত ৮টা পর্যন্ত ওষুধের দোকান বন্ধ দেখা যায়।

বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থান পরিদর্শন করেছে পুলিশ। সমিতির পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এই ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সড়ক অবরোধ প্রসঙ্গে ওসি বলেন, উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে রোগীর স্বজনদের অনুরোধ করলে অবরোধ তুলে নিয়েছেন তারা।



